বাড়ছে ডিমের দাম, সরবরাহ সংকটের অজুহাত

জাহেদুল কবির | শনিবার , ২২ আগস্ট, ২০২৬ at ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ

সরবরাহ সংকটের অজুহাতে আবারও বাড়ছে ডিমের বাজার। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা ডিমের দাম ডজনপ্রতি বেড়েছে ৫ টাকা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযানে নামে। দেখা যায়অভিযান যতক্ষণ চলে, দামও ঠিক থাকে ততক্ষণ। এরপর আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসে।

পাইকারি ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বাজারে বেশিরভাগ ডিমের সরবরাহ হয় টাঙ্গাইল থেকে। সরবরাহ টাঙ্গাইল থেকে হলেও বাজারের নিয়ন্ত্রণ করে ঢাকার তেঁজগাও সমিতি। তারা সারা দেশের ব্যবসায়ীদের কত টাকা দরে ডিম বিক্রি করবেন, সেটি জানিয়ে দেন। এছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশ ডিম ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সারা দেশের ডিম ব্যবসায়ীদের কত টাকা করে ডিম বিক্রি করবে সেটি জানিয়ে দিয়ে ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পাইকারিতে ১০০ পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১২০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি পিস ডিমের দাম পড়ছে ১১ টাকা ২০ পয়সা। এদিকে খুচরা বাজারে গতকাল সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি ডজন ১৫০ টাকায়। প্রতি পিসের দাম পড়ছে ১২ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ পাইকারির তুলনায় খুচরায় ডিমের ডজনপ্রতি ১৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

পাহাড়তলী এলাকার একজন পাইকারি ডিম ব্যবসায়ী বলেন, ডিম কত দামে বিক্রি করতে হবে, সেটি আমাদের মোবাইলে এসএমএসে জানিয়ে দেন ঢাকার ব্যবসায়ীরা। সেই দামে আমরা ডিম বিক্রি করি। অপরদিকে পাইকারি বাজারের খোঁজ নিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরাও একইভাবে দাম বাড়িয়ে দেন।

দামপাড়া এলাকার খুচরা ডিম বিক্রেতা মোহাম্মদ রানা বলেন, আমরা পাইকারি বাজার থেকে প্রয়োজন মতো ডিম এনে বিক্রি করি। পাইকারি বাজারে ডিমের দাম উঠানামার সাথে খুচরা বাজারে ডিমের বাড়া কমার কোনো সম্পর্ক নেই।

চট্টগ্রাম ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শুক্কুর আজাদীকে বলেন, সম্প্রতি বন্যার কারণে চট্টগ্রামের অনেক স্থানীয় খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বাজার থেকে ডিমের সরবরাহ কমে গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ডিমের বাজার কম থাকায় অনেক প্রান্তিক খামারি লোকসানের কারণে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে ডিমের সরবরাহ কমে গেছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, বাজারে প্রতিটি পণ্যই নিয়ে চলছে সিন্ডিকেট। ব্যবসায়ীরা একেক সময় একেক পণ্য নিয়ে খেলছেন। এর সর্বশেষ সংযোজন হচ্ছে ডিম। প্রশাসনের উচিত ডিমের বাজারে নিয়মিত মনিটরিং করা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি : প্রেস সচিব
পরবর্তী নিবন্ধদুর্ঘটনার কারণ ব্যালাস্ট ট্যাংকে থাকা হাইড্রোজেন সালফাইড