দুই মাসের বকেয়া বেতন–ভাতা পরিশোধ করার দাবিতে বান্দরবান সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তালা লাগিয়েছে হাসপাতালের কর্মচারী–নার্সদের একাংশ। গতকাল সোমবার দুপুরে বান্দরবান সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তালা লাগানোর এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, গতকাল সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে আটকা পড়েন কয়েকজন কর্মকর্তা–কর্মচারী। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান আন্দোলনকারীরা।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা–কর্মচারী জানান, সকালে কার্যালয়ের অধিকাংশ কর্মকর্তা–কর্মচারী নিজ নিজ কক্ষে কাজ করছিলেন। এ সময় সুভাষ দাশের নেতৃত্বে হাসপাতালের একদল কর্মচারী কার্যালয়ের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। কয়েকজন নারী কর্মচারী তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তাদের গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
হাসপাতালের হিসাবরক্ষক সুভাষ দাস বলেন, সিভিল সার্জনকে বদলি করে ওএসডি করার পর ডেপুটি সিভিল সার্জন চিকিৎসক দিলীপ কুমার দেবনাথকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর বেতন–ভাতার বিলে স্বাক্ষর না করায় তাদের বেতন আটকে রয়েছে। বকেয়া বেতন–ভাতা পরিশোধে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বেতন না পেলে মঙ্গলবার (আজ) থেকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসহ সবধরনের সেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ডেপুটি সিভিল সার্জন দিলীপ চৌধুরী বলেন, জেলা পরিষদ থেকে যে অফিস অর্ডার করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। বিশেষ করে শুধু পরিষদ থেকে দায়িত্ব দিলে হবে না, মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্ব দিতে হবে, তাহলে আমি বেতন বিলে স্বাক্ষরসহ আয়–ব্যয় এর কাজগুলো পারবো। অফিসের নিয়মের বাইরে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহীন হোসাইন জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাকে বান্দরবানে পদায়ন করা হলেও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ তার যোগদানপত্র গ্রহণ করছে না। এ কারণে তিনি কর্মচারীদের বেতন বিলের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে পারছেন না। ফলে আটকে রয়েছে তাদের বেতন বিল। তিনি আরো বলেন, যারা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী আইনে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য মশিউর রহমান মিঠুন বলেন, ফ্যাসিস্টরা হাসপাতালে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এদের বিরুদ্ধে সবার সজাগ থাকতে হবে।












