ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে যুদ্ধ বাঁধার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বন্ধ থাকবে বলে গতকাল শনিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও আগমনী কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এয়ারফিল্ড সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাতিল হওয়া বহির্গমন ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা–চট্টগ্রাম–দুবাই ফ্লাইট বিজি–১৪৭ চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ার সময় ছিল সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট, বিমানের ঢাকা–চট্টগ্রাম–শারজাহ রুটের ফ্লাইট নম্বর বিজি–১৫১ ছাড়ার সময় ছিল সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট, বেসরকারি ফ্লাইট অপারেটর ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনসের ঢাকা–চট্টগ্রাম–দোহা রুটের ফ্লাইট নম্বর বিএস–৩৩৩ ছাড়ার সময় ছিল বিকাল ৫টা ২৫ মিনিট। এই ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হয়েছে।
অপরদিকে আগমনী ফ্লাইটের মধ্যে এয়ার এরাবিয়ার শারজাহ–চট্টগ্রাম রুটের ফ্লাইট নম্বর জি৯–৫২০ শারজাহ থেকে ছাড়ার সময় ছিল বিকাল ৩টা ২০ মিনিট। ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনসের দুবাই–চট্টগ্রাম রুটের বিএস–৩৪৪ ছাড়ার সময় ছিল বিকাল ৩টা ১০ মিনিট এবং মাস্কাট–চট্টগ্রাম রুটের সালাম এয়ারের ওভি–৪০৩ ছাড়ার সময় সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিট। এই ফ্লাইটগুলোও বাতিল করা হয়েছে।
তবে ব্যতিক্রম হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মাস্কাট–চট্টগ্রাম–ঢাকা রুটের ফ্লাইট নম্বর বিজি–১২২ মাস্কাট থেকে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে সফলভাবে যাত্রা করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাতিল হওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ সংযোগ ফ্লাইট সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো কাজ করছে। যাত্রীদের সর্বশেষ ফ্লাইট তথ্যের জন্য নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আজ রোববার সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সালাম এয়ারের মাস্কাট–চট্টগ্রামের আগমনী ওভি–৪০১ ফ্লাইটটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ফ্লাইটটি সকাল সাড়ে ৭টায় অবতরণ করার কথা ছিল। সকাল সাড়ে ৮টায় বিমানবন্দর থেকে ওভি–৪০২ নামে পুনরায় মাস্কাটের উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট স্থগিত : বিডিনিউজ জানায়, বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। তিনি বলেন, দাম্মাম, কুয়েত, দুবাই, জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, শারজাহ্, আবুধাবিসহ যে সকল গন্তব্যে যাত্রীরা ফ্লাইটের জন্য যাত্রা করছিলেন, তারা যেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাথে যোগাযোগ করা ছাড়া বিমানবন্দরে না আসেন। যোগাযোগ নম্বর ১৩৬৩৬।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যের ফ্লাইট স্থগিতের বিষয়ে বিকালে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে ইরানে ইসরায়েল কর্তৃক হামলার ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাহরাইন, কুয়েত, দুবাই ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট রুটসমূহে নির্ধারিত কয়েকটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব অথবা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সকল এয়ারলাইনসকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে।
এসব নির্দেশনা হলো : ১. ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব সংক্রান্ত তথ্য যাত্রীদের এসএমএস, ই–মেইল ও কল সেন্টারের মাধ্যমে অগ্রিম জানাতে হবে। ২. সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কর্মীদের বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া ও দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. পুনঃনির্ধারিত ফ্লাইট সংক্রান্ত স্পষ্ট ও সমন্বিত তথ্য দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি পরিহার করা যায়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যাত্রীদের অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, ওইসব রুটে ভ্রমণের পরিকল্পনায় থাকা যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনস অফিস বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করে ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।












