চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যায় ১৫ উপজেলায় ৬১৪টি গ্রামীণ সড়কের ৪৯০ কিলোমিটার ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। কোনো কোনো সড়ক ছিন্নবিছিন্ন হয়ে ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চার উপজেলাগুলোয়। বিশেষ করে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়া উপজেলায়। সেখানে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে সড়কগুলোর নিচের মাটি পর্যন্ত ধুয়ে গেছে। এতে অনেক গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যায় ৪৯০ কিলোমিটার সড়কে যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতির পরিমাণ ৩৯০ কোটি টাকা বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন।
এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার মধ্যে রয়েছে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া। এছাড়া আনোয়াারা বোয়ালখালী–সীতাকুন্ড–ফটিকছড়ি উপজেলায়ও ক্ষতি হয়েছে।
অনেক উপজেলায় ছোট–ছোট সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে সড়কের ধসে পড়া অংশ, হেলে পড়া কালভার্ট–সেতু, গ্রামীণ সড়কের উপড়ে থাকা ইট ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বন্যায় পানি মেনে যাওয়ার পর জেলার সড়ক যোগাযোগ ও যাতায়াত নিয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন এ অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের মানুষ।
এই ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন গতকাল আজাদীকে জানান, আমাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৬১৪টি গ্রামীণ সড়কের প্রায় ৪৯০ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও আমাদের ১৮০ সেতু, কালভার্ট ও স্লুইসগেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চার উপজেলায়। এরমধ্যে বেশি ক্ষতি হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলায়, তারপর বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়ায়। সতকানিয়া উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ম্যাসাকার হয়ে গেছে। এই উপজেলার অনেক সড়ক ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখানে ৬১টি সড়কের ৪৭ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়কে যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। একই ভাবে বাঁশখালী উপজেলায় ৫৮টি সড়কের ৪৬ কিলোমিটার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখানেও সড়কে যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকার মতো। চন্দনাইশে ৫৫টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৮ কিলোমিটার সড়ক।
বন্যার পানি নামার পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দৃশ্যমান হওয়ার পর যেসব সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সেগুলোর মেরামতের কাজ শুরু করার কথা জানিয়ে প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য ইতোমধ্যে আমাদের নিয়মিত মেরামতের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর কাজ শুরু করেছি। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সড়কগুলো সচল করা। যেগুলো বেশি ক্ষতি হয়েছে সেগুলো কিছু দিনের মধ্যে টেন্ডার হয়ে যাবে। আপাতত যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য আমরা নিয়মিত মেইনটেন্যান্সের অংশ হিসেবে সড়কগুলোর মেরামতের কাজ করছি।











