বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। গতকাল শুক্রবার এসব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি গতকাল শুক্রবার দুপুরে সাতকানিয়ায় ত্রাণ বিতরণকালে বলেন, বন্যা কবলিত মানুষের পাশে রয়েছে সরকার। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক বন্যা কবলিত মানুষের খোঁজখবর নিয়েছেন। বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বন্যা কবলিতদের জন্য ইতিমধ্যে নগদ টাকা, শুকনো খাবার ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে সহায়তা প্রদান করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ খাতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করা হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনই সরকারের অগ্রাধিকার। সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন ও তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতির পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, এনামুল হক, শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইদ্রিস মিয়া, সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন, মুজিবুর রহমান মুজিব, নাজমুল মোস্তফা আমিন, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান, রিয়াজউদ্দিন বাজার তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতির সভাপতি আবু তালেব, সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সিনিয়র সহ–সভাপতি ফারুক আজম, সহ–সভাপতি সেলিম বজলুর রহমান, ব্যবসায়ী নেতা সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।
বাঁশখালী : গতকাল শুক্রবার বিকালে বাঁশখালীর জলদী ভাদালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরল আমিরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পৃথক মতবিনিময় ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরল আমিরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় মন্ত্রী বলেন, ‘অনারা ভালা নেই, কেন আছন পোছার নলইর (খোঁজ নিচ্ছি না)। অনারা যে ভালা নাই, ইয়ান আই নিজের চোখে দেখকি (দেখলাম)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশ সরকার অনারার (আপনাদের) অবস্থা পুরাপুরি বেইগিন (সব) জানে। আই নিজে আইস্যি দে চাইবার লাই (আমি নিজে দেখতে এসেছি)।’
তিনি আরও বলেন, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ এই সব এলাকা ঘুরে আমি এখানে এসেছি। এই বন্যায় প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৭৫ হাজার মানুষকে শুকনো খাবার (চাল, ডাল, তেল) বিতরণ করা হয়েছে। ৪০ হাজার মানুষকে রান্না করা খাবার এবং আরও ৪০ হাজার মানুষকে চাল দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছায় এই ত্রাণ কার্যক্রম চলমান থাকবে। এর পরপরই আমরা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করব। কৃষকদের বীজ ও সার দেওয়া হবে এবং ঘরবাড়ি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
এর আগে জলদী ভাদালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যা দুর্গতদের সাথে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী। তবে সেখানে নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনতার অতিরিক্ত চাপের কারণে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এবং দুয়েকজনের হাতে ত্রাণ তুলে দিয়ে পরবর্তী স্পটের উদ্দেশ্যে স্থান ত্যাগ করেন।
ত্রাণ বিতরণকালে মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, বোয়ালখালী আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। এছাড়াও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, সদস্য জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
লোহাগাড়া : গতকাল দুপুরে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসময় তিনি বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। এজন্য কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, আবাসন ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনায় কাজ করছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম–৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম–৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন, সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিন, এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন চৌধুরী সোহেল, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজীদ–বিন–আখন্দ প্রমুখ।












