বন্যার্তদের সাহায্যার্থে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে

| রবিবার , ১২ জুলাই, ২০২৬ at ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত চট্টগ্রামের ৭ লাখ লোক পানিবন্দী। দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গত রোববার থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালীর অনেক জায়গা প্লাবিত হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় থেকে জানানো হয়, শুক্রবার পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ১৭৬টি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবারের ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন লোক বন্যা আক্রান্ত হয়েছে। বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সাতকানিয়ায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে হলেও অভ্যন্তরীণ সব সড়ক এখনো পানির নিচে। চন্দনাইশ হাশিমপুর অংশ ডুবে প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় বন্যার পানি প্রবাহিত হয়েছিল। এখন মহাসড়ক থেকে পানি কিছুটা কমেছে। ওই স্থান দিয়ে বড় বড় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হলেও সিএনজি, প্রাইভেটসহ ছোট ছোট যানবাহন চলাচলে বেগ পেতে হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, বন্যায় চন্দনাইশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২২০০ হেক্টর আউশ ধান, ৯০০ হেক্টর বিভিন্ন ধরনের সবজি, ৭০ হেক্টর পেঁপে ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা মৎস্য অফিসের দেয়া তথ্যমতে, বন্যায় এ পর্যন্ত ৫০০টিরও অধিক পুকুর, মৎস্য প্রজেক্ট ডুবে সম্পূর্ণ মাছ ভেসে গেছে। এতে মৎস্য খামারীদের কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি সাধিত হয়।

কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় সৃষ্ট চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০টি পদক্ষেপের নির্দেশনা দিয়েছেন। খবরে প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগ কবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০টি উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন; জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই ৫টি জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্‌্িরক টন চাল দুর্গতদের কাছে দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেওয়া; সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা; জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম গতিশীল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা; দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সহযোগী সংগঠনগুলো মাঠে নামা; একই সাথে সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে কাজ করা।

বর্তমান সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার্তদের সাহায্যে সরকার কোনো ধরনের গাফিলতি করবে না। তারপরও বলা জরুরি, ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ব্যবস্থায় যারা জড়িত তাদের তরিৎকর্মার ওপরে অনেক কিছুই নির্ভরশীল। এবার যে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে এবং ব্যাপক ক্ষতি ডেকে এনেছে, এতে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে আগেভাবেই সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে মানুষ যাতে বিশুদ্ধ পানি খাদ্যসহ ত্রাণ সামগ্রীর অভাবে যেনো কোনো কষ্ট না পায়। তাদের যেনো উপোস থাকতে না হয়।

বিশ্লেষকরা বলেন, বৃষ্টি ও বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে। অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাবারের সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ তীব্র পানি সংকট বোধ করতে পারে। নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি ও সংগঠন পর্যায়ের তৎপরতাও দরকার। এ জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দুর্গত মানুষের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রায় বার্ষিক এ দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থায়ী ব্যবস্থা দরকার। বন্যাদুর্গতদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় দেওয়া এবং শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা জরুরি। সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। বিত্তবানদেরও উচিত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানুষের কাজ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে