চট্টগ্রামের সদ্য ঘোষিত এবং দেশের ৫০১তম ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর সবার জন্য সুবিধাজনক এবং ভৌগোলিকভাবে যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল–সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে। উপজেলার তিন ইউনিয়ন–বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাটে এই হরতাল কর্মসূচি পালিত হবে।
গতকাল বুধবার দুপুরে হেয়াকো বাজারে ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ’–এর ব্যানারে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, সরকারের পক্ষ থেকে নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্তকে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ স্বাগত জানালেও সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে শুরু থেকেই চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। সরকারি গেজেটে সদর দপ্তর ভুজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভুজপুর মৌজায় নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে বাগানবাজার বা দাঁতমারার মতো দূরবর্তী এলাকার মানুষ সেবা পেতে অনেক কষ্ট হবে। আন্দোলনকারীদের দাবি– ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, যাতায়াত সুবিধা এবং জনসাধারণের প্রশাসনিক কার্যকারিতার কথা বিবেচনা করে সদর দপ্তর পশ্চিম ভুজপুরের পরিবর্তে নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী জুজখোলা মৌজায় স্থাপন করতে হবে।
সমন্বয় পরিষদের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উপজেলার সর্বস্তরের ছাত্র–জনতা ও সাধারণ মানুষ আজ রাজপথে নেমে এসেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে ।
হরতাল চলাকালীন ঢাকা–ফেনী–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ফটিকছড়ি–ফেনী–হেয়াকো সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন। তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, ওষুধের দোকানসহ জরুরি সেবা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান পরীক্ষাসমূহ এই হরতালের আওতামুক্ত থাকবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে কোনো ধরনের অবনতি না হয় সেদিকে আমাদের নজর থাকবে। তবে কাউকে বাধা দেওয়া হবে না।












