প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির হাজারী লেইনস্থ ভবনে ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগে আয়োজিত হয়েছে পোস্ট বাজেট ডিসকাশন : ফিসক্যাল ইয়ার ২০২৬–২০২৭ শীর্ষক সেমিনার। গতকাল শনিবার এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস এম নছরুল কদির। কীনোট স্পিকার ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের কো–অর্ডিনেটর বদরুল হাসান আউয়াল। প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক এস এম নছরুল কদির তাঁর বক্তব্যে এবারের বাজেটে ইউজিসি কর্তৃক বরাদ্দকৃত রিসার্চ ফান্ডে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায্য হিস্যার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এছাড়া তিনি সিনেমা, গান ও মেধা সম্পদসহ ক্রিয়েটিভ ইকোনমির প্রসারে প্রথমবারের মতো ৪০০ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করে রেকর্ড ৬৯,৬০৯ কোটি টাকা (জিডিপির ১.০২%) করার মতো প্রশংসনীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রি–ইউনিভার্সিটি কলাবোরেশনের মতো অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে বাস্তবমুখী জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জাতীয় গবেষণা বাজেটের আওতাভুক্ত করা এবং দুর্নীতি ও ব্যাংকিং সেক্টরে অনিয়মের কারণে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফ্রোজেন ফান্ড রিলিজের মাধ্যমে তাদের অগ্রগতি সুনিশ্চিত করার পরামর্শ প্রদান করেন। সামগ্রিকভাবে, ব্যাংক থেকে সরকারের ৬,০০০ কোটি টাকা কম ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করবে এবং প্রবৃদ্ধির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কীনোট স্পিকার বদরুল হাসান আউয়াল ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রদত্ত বাজেট তাঁর পূর্ববর্তী বাজেটের সাথে তুলনামূলক প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন। তিনি তাঁর আলোচনায় শিক্ষাখাতে ও স্বাস্থ্যখাতে প্রদত্ত বর্ধিত বাজেট নিয়ে ইতিবাচক ভাব প্রকাশ করেন; সেই সাথে সৃজনশীল অর্থনীতির উপর সরকারের মনোযোগ ভবিষ্যতে অর্থনীতির নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে উল্লেখ করেন। অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. অর্পিতা দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কান্তি নাথ বাজেট আলোচনায় তাঁর বক্তব্যে আয় বৈষম্য হ্রাসে আয় পুনর্বণ্টনে গুরুত্বারোপ করেন। অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র–ছাত্রীদের পক্ষে এই আয়োজনে বাজেট বিষয়ক বক্তব্য দেন, ৮ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী শর্মি বনিক ও মাহিউদ্দীন জুয়েল।
শর্মি বনিক তার আলোচনায় দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর ছাড়ের প্রস্তাব করেন। মাহিউদ্দীন জুয়েল তাঁর বক্তব্যে ক্রমাগত ঘাটতি বাজেটের ফলে সরকারের ঋণের প্রবৃদ্ধি, বাজেট টু জিডিপি অনুপাত, মুদ্রাস্ফীতি ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। সেমিনারে অর্থনীতি বিভাগের বিভিন্ন সেমিস্টারের ছাত্র–ছাত্রীসহ সহকারী অধ্যাপক উম্মে সালমা, সহকারী অধ্যাপক ফারিয়া হোসেন বর্ষা, সহকারী অধ্যাপক সুদীপ দে এবং প্রভাষক ইফতেখার মিয়া উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












