পেকুয়া উপজেলার দুই যুগ পূর্তি

সালাহউদ্দিন আহমদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা

দেলওয়ার হোসাইন, পেকুয়া | মঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

২৭ এপ্রিল পেকুয়াবাসীর জন্য এক অবিস্মরণীয় দিন। ২০০২ সালে এ দিনটি পেকুয়ার ইতিহাসের নতুন যাত্রার। যে দিনটিতে বাংলাদেশের মানচিত্রে নতুন একটি উপজেলার সংযোগ হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মরণাতীতকালের বৃহত্তর জনসভায় হাজার হাজার নারীপুরুষের সামনে পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় পেকুয়া উপজেলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছিলেন। গতকাল দুই যুগ পূর্তি হলো পেকুয়া উপজেলার।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ২৭ মার্চ সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সরকারের পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত নিকার সভায় পেকুয়া উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত অনুমোদন হয়। ২০০২ সালের ২৩ এপ্রিল পেকুয়া উপজেলার ঘোষণা মুদ্রিত হয় স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে। এ উপজেলার বয়স ২৪ বছর পূর্ণ হয়েছে। পেকুয়া উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় । ইউনিয়নগুলো হলোপেকুয়া সদর, রাজাখালী, মগনামা, টইটং, বারবাকিয়া, শিলখালী ও উজানটিয়া। এগুলো পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগে চকরিয়ার অধীনস্থ ছিল।

২০০২ সালে পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে কক্সবাজার জেলাটি প্রথম শ্রেণির জেলার মর্যাদা লাভ করে। অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলা মর্যাদা লাভের মাধ্যমে উপকূলীয় জনগণের নাগরিক সুুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আর আগের মত চকরিয়ায় গিয়ে সরকারিবেসরকারি দাপ্তরিক কাজের জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে হয় না। এসএসসিএইচএসসিসহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে যায় বাড়ির পাশের প্রতিষ্ঠানেই। উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে পেকুয়ার অবকাঠামোগত অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক মেয়র মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার স্মৃতিচারণ করে বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ গণমানুষের রাজনীতি করেন, সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। তাঁরই প্রচেষ্টায় পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠা হয়। সৌভাগ্যক্রমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদার সাথে আমিও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। উপজেলাটির আরও সাফল্য অর্জন করুক এ কামনা করি।

সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব এ আর এম খালেকুজ্জামান স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেদিন এক ঐতিহাসিক অধ্যায় ছিল, পেকুয়া চকরিয়ার ৫ লক্ষ জনগনের উপস্থিতিতে মেজবান আয়োজন ছিল অবিস্মরণীয়।

পেকুয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছফওয়ানুল করিম বলেন, পেকুয়া উপজেলা ও পেকুয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠার দুই যুগ পূর্তিতে উপজেলার প্রতিষ্ঠাতা সালাহউদ্দিন আহমদ ও পেকুয়াবাসীকে শুভেচ্ছা জানাই। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চাহিদার চেয়ে পেকুয়া প্রাপ্তিটা অনেক ছিল। এরপরও বিগত সরকারের সময় এটি উন্নয়ন বঞ্চিত হয়। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পেকুয়া উপজেলায় উন্নয়ন করবে। ইতিমধ্যে পেকুয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠার আয়োজন চলছে।

পেকুয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুট বলেন, উন্নয়নের মাধ্যমে আগামীতে পেকুয়া উপজেলা বাংলাদেশের একটি শ্রেষ্ঠ ও মডেল উপজেলা রূপান্তর হবে।

বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী পেকুয়া জমিদার বাড়ির সন্তান ফরহাদ চৌধুরী বলেন, আজ যাদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ তাদের কাছে হয়তো স্বপ্ন মনে হবে, সত্যিই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করে কালের সাক্ষী হয়ে থাকবেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। পেকুয়া চকরিয়াবাসীর লালিত স্বপ্ন তিনি পূর্ণ করেছেন। ঐতিহাসিক সেই জনসভায় পেকুয়া উপজেলার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম আবু তাহের চৌধুরী সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, তৎকালীন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীনসহ আরও অনেকে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামের উন্নয়নে পাশে আছি, থাকব
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬