চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান কন্টেনার চাপ মোকাবিলায় পূর্ব পতেঙ্গার লালদিয়া চর–২ নামে নতুন একটি কন্টেনার ইয়ার্ড নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই কন্টেনার টার্মিনাল পরিচালনা করা হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষের ১০ একর ভূমিতে অপারেটর প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব বিনিয়োগে কন্টেনার হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম সরবরাহ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করতে হবে।
পতেঙ্গার লালদিয়া চর এলাকায় ইতোপূর্বে লালদিয়া চর কন্টেনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করা হয়েছে। এরই সন্নিকটে ১২ নম্বর খালের পাশে বন্দর কর্তৃপক্ষের আরো ১০ একর জায়গা রয়েছে। ওই জায়গায় নতুন করে লালদিয়া চর–২ নামের একটি কন্টেনার ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করেছে। এতে বলা হয়েছে, ১৫ বছরের জন্য অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে। ওই এলাকায় ৪০ হাজার ৪৬৫ বর্গমিটার আয়তনের একটি কন্টেনার ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে।
বন্দর সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে বন্দরের কন্টেনার হ্যান্ডলিং ৩৫ লাখ টিইইউএস ছাড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে বলে ইতোমধ্যে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বন্দরের মূল টার্মিনালগুলোতে জায়গার সংকট এবং দ্রুত কন্টেনার ডেলিভারি নিশ্চিত করতে সহায়ক অবকাঠামো হিসেবে লালদিয়া চর এলাকায় একাধিক ইয়ার্ড উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন এই ইয়ার্ড চালু হলে বন্দরের ব্যাকআপ স্টোরেজ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, কোনো সরকারি অর্থায়ন ছাড়াই নির্বাচিত বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় কন্টেনার হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি, অপারেশনাল সুবিধা এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ করতে হবে। ১৫ বছর মেয়াদে ইয়ার্ডটি পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্বও তাদের ওপর থাকবে।
বন্দর বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি–বেসরকারি অংশীদারিত্বভিত্তিক (পিপিপি ধরনের) এই মডেল বাস্তবায়িত হলে বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রাথমিক বিনিয়োগ করতে হবে না। একই সঙ্গে আধুনিক সরঞ্জাম ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কন্টেনার স্থানান্তর ও সংরক্ষণ কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে।
দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের অন্তত পাঁচ বছরের কন্টেনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর মধ্যে সমুদ্রবন্দর বা কন্টেনার টার্মিনালে জাহাজে কন্টেনার লোডিং–আনলোডিং এবং ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মূল প্রতিষ্ঠান বা এর সহযোগী উভয়েই যোগ্যতা পূরণ করলে দরপত্রে অংশ নিতে পারবে।
ইতোমধ্যে আহূত দরপত্রের প্রি–বিড মিটিং আগামী ২১ জুন সকালে অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ জুন পর্যন্ত দরপত্র বিক্রি হবে। ২৮ জুন দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ওইদিন দুপুরে দরপত্র খোলা হবে। দরপত্রের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ টাকা এবং দরপত্র নিরাপত্তা জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে ৫ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পণ্য এবং প্রায় ৯৮ শতাংশ কন্টেনার আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করে। দিনে দিনে দেশে কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বাড়ছে। ফলে বিদ্যমান ইয়ার্ড ও টার্মিনালগুলোর ওপর চাপও বেড়েছে। এ অবস্থায় বে টার্মিনাল, পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল, লালদিয়া টার্মিনাল উন্নয়ন এবং বিভিন্ন অফ–ডক সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন কন্টেনার ইয়ার্ড গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, লালদিয়া চর–২ কন্টেনার ইয়ার্ড পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বন্দরের কন্টেনার সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়বে, জেটিতে কন্টেনারজট কমবে এবং আমদানি–রপ্তানি পণ্য খালাসের গতি আরো বৃদ্ধি পাবে।
তবে অপর একটি সূত্র বলেছে, এতগুলো কন্টেনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ডের চাপ একটি মাত্র রাস্তার মাধ্যমে সামাল দেওয়ার প্রভাব কীভাবে পড়বে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।











