পাহাড় ধস প্রতিরোধে ২৪৯ কোটি টাকার প্রকল্প

রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগ

রাঙামাটি প্রতিনিধি | শনিবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ at ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ

রাঙামাটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২০১৭ সালে ১৩ জুন পাহাড় ধসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার বিভিন্ন সড়ক। এতে করে রাঙামাটির সাথে কাপ্তাই-চন্দ্রঘোনা-বাঙালহালিয়া-বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। বর্তমানে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত এবং পাহাড় ধস প্রতিরোধে ২৪৯ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
বর্তমানে রাঙামাটি শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের সড়কগুলোতে পুরোদমে কাজ চলছে। পাহাড় ধসে ক্ষতি হওয়া প্রতিটি সড়ক যাতে আগের ন্যায় পরিপূর্ণতা লাভ করে সেই চেষ্টাই করছে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ১৩ জুন পাহাড় ধসের ফলে রাঙামাটি জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড় ধসে রাঙামাটি সড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়কের মোট ১৫১টি স্পটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এ প্রকল্পের ৪০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে ২০২২ সালে ৩০ জুন এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক বিভাগ। রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের মধ্যে মোট নিরাপত্তা দেওয়াল রয়েছে ৫ হাজার ৪৭০ মিটার ও ড্রেন হচ্ছে ৭ হাজার ৭৩৫ মিটার। পাহাড় ধস প্রতিরোধক কংক্রিট ঢালাই হচ্ছে ৭২ হাজার ১৫০ বর্গ মিটার।এরমধ্যে ৫ মিটার উচ্চতার নিরাপত্তা দেয়াল হবে ৫১ টি স্পটে, ৬ মিটার উচ্চতার রিটেইনিং হবে ৭৩টি স্পটে। ৭ মিটার উচ্চতার নিরাপত্তা দেয়াল হবে ২৭টি স্পটে। পাইল ফাউন্ডেশনের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১২-১৮ মিটার। চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক এর (প্যাকেজ-১) ৩৭ কিমি. থেকে ৭৪ কিমি. পর্যন্ত প্রকল্প ব্যয় হচ্ছে ৭০ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে মোট ৪২টি স্পটে ১ হাজার ৬৬০ মিটার নিরাপত্তা দেয়াল স্থাপন করা হবে।
এদিকে মানিকছড়ি-মহালছড়ি (প্যাকেজ-২) খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রথম ২০ কি.মি. সড়ক মেরামতে ব্যয় হচ্ছে ৪০ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা।খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি (প্যাকেজ -৩)সড়কে ২০-৪১ কি.মি. সড়কে মহালছড়ি বাজার পর্যন্ত, প্রকল্পে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। রাঙামাটির (প্যাকেজ-৪) কাউখালীর ঘাগড়া-চন্দ্রঘোনা- বান্দরবান মহাসড়কে ৪০০ মি. সড়ক পর্যন্ত এ প্রকল্পের সড়ক উন্নয়নের কাজ করা হবে। বাঙালহালিয়া রাজস্থলি সড়কে ৭ কি.মি. ২০ কি.মি. সড়ক পর্যন্ত সার্ফেস ড্রেনসহ আরসিসি নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণ। এটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহে আরেফীন জানান, ২০১৯ এর জুলাই- ২০২২ এর জুন পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ ছিল। কিন্তু প্রকল্পটি একনেকে পাশ হয় ২০২০ এর জানুয়ারী। এরপর টেন্ডার করা হলেও মার্চে করোনা লকডাউনে সময় পেছাতে হয়। সেজন্য প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ছে কিন্তু কোন ব্যয় বাড়ছে না।
তিনি বলেন, বেশি ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলো মোটামুটি ২০২২ বর্ষার আগে কাজ শেষ হয়ে যাবে। তিনি জানান, এ প্রকল্পে কিভাবে তিন পার্বত্য জেলার পাহাড় ধস রোধ করা যায়,তা নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই গবেষণার জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাহাড় ধস ঝুঁকি নিরূপন ও পাহাড় ধস ঝুঁকি ম্যাপ , স্ট্যাটিজিক ফ্রেম ওয়ার্ক এবং ভূমিধস প্রকল্পে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরো জানান, তিন পার্বত্য জেলায় ১ হাজার ৯২ কি.মি. সড়ক আছে। সড়কের মাটিগুলোকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে। মাটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর কোন কোন স্থানে কোন ধরনের পদ্ধতিতে পাহাড় ধস ঠেকানো যাবে তা নিয়ে কাজ করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধডবলমুরিংয়ে ছিনতাই চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধপ্রেমের ফাঁদে ফেলে ছিনতাই, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩