পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি গতকাল সোমবার সকালে পদত্যাগ করেছেন। সন্ধ্যায় পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। তবে বিকেলে রাঙামাটি শহরে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার দাবিতে রাঙামাটি–চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বিডিনিউজ জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান মন্ত্রিসভা থেকে তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে স্বাস্থ্যগত জটিলতার কথা বলেছেন। ঈদের ছুটি শেষে গতকাল সোমবার অফিস খোলার দিনই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং একই দিনে তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লেখা সেই পদত্যাগপত্রে বলা হয়, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানাধিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির স্বার্থে আমার বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি।’
এক সময় সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে সরকারি চাকরি করা অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ২০০৫ সালে চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন। দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১০ সালে দীপেন দেওয়ান রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ–ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এখনো তিনি সেই দায়িত্বে আছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রথমবারের মত ভোটের লড়াইয়ে নামেন দীপেন দেওয়ান। ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে এক লাখ ৬৯ হাজার ৬৬ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে তিনি প্রথমবারেই এমপি নির্বাচিত হন।
আমাদের রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান: দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার দাবিতে গতকাল বিকেল ৫টার দিকে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতাকর্মী, মহিলা দল, ছাত্রদলসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এসময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয় এবং সড়কের উভয় পাশে যানবাহন আটকে পরে। অনেক যাত্রীদের হেঁটে হেঁটে সড়ক পার হতে দেখা গেছে। পরে সন্ধ্যা ৬টায় দিকে বিক্ষোভ শেষ হলে সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।











