পতেঙ্গায় ওয়াসার পানি সংকট নিরসনে নেদারল্যান্ডের অনুদানে পাইলট প্রকল্প

সমঝোতা স্মারক সই আগামী সপ্তাহে

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ৭ জুলাই, ২০২৬ at ১০:২১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর ৪০ নং উত্তর পতেঙ্গা ও ৪১ নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে নেদারল্যান্ড সরকারের অনুদানে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ দুই ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের বিদ্যমান পানি সংকট অনেকাংশে কমবে যাবে বলে জানান চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম। এ পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসা কার্যালয়ে বাংলাদেশে নেদারল্যান্ড দূতাবাসের প্রথম সচিব (পানি ও জলবায়ু) ইঙ্গি ক্লাসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

এ সময় নেদারল্যান্ড দূতাবাসের প্রথম সচিব ইঙ্গি ক্লাসে চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডিকে জানান, বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নেদারল্যান্ড সরকার সম্পূর্ণ অনুদানের ভিত্তিতে পতেঙ্গার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী। চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে নেদারল্যান্ডের একটি কারিগরি দল ওই এলাকায় প্রাথমিক সার্ভে করেছে। এরপর তারা পাইলট প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহী হয়েছেন। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর একটি প্রিফিজিবিলিটি স্ট্যাডি পরিচালনা করা হবে। ওই সমীক্ষায় এলাকার পানির চাহিদা নিরূপণ, বিদ্যমান পানি সরবরাহ ও পাইপলাইন নেটওয়ার্কের অবস্থা মূল্যায়ন, সম্ভাব্য পানির উৎস নির্ধারণ এবং পানি পরিশোধনের উপযোগিতা যাচাই করা হবে। প্রিফিজিবিলিটি স্ট্যাডির ফলাফলের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বড় পরিসরে পিপিপি স্কিমের আওতায় ওই এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম আজাদীকে জানান, নগরীর পতেঙ্গা এলাকার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে নেদারল্যান্ড সরকারের সহযোগিতায় একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নেদারল্যান্ডের অর্থায়নে সম্পূর্ণ ফ্রি’তে তারা এই পাইলট প্রকল্পটি করার ব্যাপারে আমাদের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের (নেদারল্যান্ডের) একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসা কার্যালয়ে আমাদের সাথে দেখা করেছেন। এরমধ্যে তারা এলাকাটি সার্ভে করেছেন। পাইলট প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পতেঙ্গার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের পানি সংকট অনেকটাই দূর হবে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বৃহৎ পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগরের পানি উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতি কমিয়ে নগরবাসীর জন্য টেকসই ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, তারা প্রাথমিক সার্ভেতে ওই এলাকার পানির সমস্যা, পানির চাহিদা নিরূপণ, বিদ্যমান পানি সরবরাহ ও পাইপলাইন নেটওয়ার্ক, সম্ভাব্য পানির উৎস নির্ধারণ এবং পানি পরিশোধনের উপযোগিতা সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম জানান, পতেঙ্গা এলাকার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানি বঞ্চিত অনেক পরিবার এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় চলে আসবে। এই ব্যাপারে আগামী সপ্তাহে নেদারল্যান্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম ওয়াসার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধতিন ব্যক্তিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড
পরবর্তী নিবন্ধপটিয়া পৌরসভার ই-জিপি টেন্ডার নিয়ে হট্টগোল