পটিয়া পৌরসভায় ই–জিপি টেন্ডার নিয়ে ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এসময় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্রের কক্ষের সামনে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন ২০/২৫জন ঠিকাদার। গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে পটিয়া পৌরসভায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঠিকাদাররা অনিয়মের মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়া ও অনলাইন জালিয়াতির মাধ্যমে করা টেন্ডার বাতিল চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন।
জানা গেছে, তিনটি উন্নয়ন কাজের ই–জিপি টেন্ডারে আবারও একই তিনটি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নিবন্ধিত ঠিকাদাররা। টেন্ডারের ফল প্রকাশের পর সোমবার পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে তিনটি টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবিতে প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন।
পৌরসভা সূত্র জানায়, ই–টেন্ডার নোটিশ ০৪/২০২৫–২৬ (এলটিএম)’র আওতায় তিনটি উন্নয়ন কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। টেন্ডার আইডি ১৩০০০৩২, ১৩০০০৪৯ ও ১৩০০০৫৬–এর দরপত্র উন্মুক্ত করার পর লটারির মাধ্যমে কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়। টেন্ডার নথি অনুযায়ী, টেন্ডার আইডি–১৩০০০৪৯–এ প্রায় ২৭ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮৩ টাকা ব্যয়ে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হযরত শাহচাঁন্দ আউলিয়া (রহ.) মাজার সড়কে ইউনি ব্লক বসানোর কাজের জন্য ৫৮টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এতে কার্যাদেশ পায় জাহিন এন্টারপ্রাইজ। টেন্ডার আইডি–১৩০০০৩২–এ প্রায় ২৪ লাখ ১৯ হাজার ৩৯১ টাকা ব্যয়ে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাজী বাড়ি মোড় থেকে বাইপাস এলাকার আমিরিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা সড়কে ইউনি ব্লক বসানোর কাজের জন্য ৫৯টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। কার্যাদেশ পায় সিমিন কনস্ট্রাকশন। এছাড়া টেন্ডার আইডি–১৩০০০৫৬–এ প্রায় ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯৫ টাকা ব্যয়ে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বনবিভাগের বাউন্ডারি ওয়াল সংস্কার, পটিয়া ক্যারাটি ক্লাবে বৈদ্যুতিক সামগ্রী সরবরাহ, ২ নম্বর ওয়ার্ডের একতা আবাসিক এলাকায় রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুস সোবহান বাড়ির সড়কে আরসিসি কাজের জন্য ৫৬টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এ কাজের কার্যাদেশ পায় তানজিনা এন্টারপ্রাইজ। টেন্ডারের ফল প্রকাশের পর সোমবার সন্ধ্যায় পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন অংশগ্রহণকারী ঠিকাদাররা। পরে তারা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে তিনটি টেন্ডারের কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় রি–টেন্ডার আহ্বানের দাবি জানান।
বিক্ষোভ শেষে ঠিকাদার রাকিব এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী রাকিব হাসান বলেন, ‘ই–জিপি পদ্ধতির উদ্দেশ্য হলো স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু একই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ পাওয়ায় অন্যান্য ঠিকাদারদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত।
অফিস টাইমের বাইরে গিয়ে পটিয়া পৌরসভা থেকে সদ্য বিদায়ী সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, আমি পৌরসভার স্টাফদের চা’য়ের দাওয়াত পেয়ে পৌরসভায় এসেছিলাম। ওই সময় টেন্ডারের লটারি প্রক্রিয়া চলছিল এবং আমি এ সময় উপস্থিত হই। এতে টিকাদাররা ধারণা করছেন, আমি নিজে উপস্থিত হয়ে তাদের কাজ পাইয়ে দিছি। এটা সঠিক নয়। শাহজাহান উপস্থিত থেকে এ টেন্ডারের ফল প্রকাশ করা হয়। এতে করে আমরা মনে করি একটি চক্র দীর্ঘ বছর ধরে ই–টেন্ডারের কৌশলে নিয়ন্ত্র নিয়ে আসছে। আর না হলে বার বার কেন একই প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পেয়ে থাকে।
আরেক ঠিকাদার জামান ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী আক্তারুজ্জামান বাবলু বলেন, আমরা নিয়ম মেনে টেন্ডারে অংশ নিই। কিন্তু বছরের পর বছর একই প্রতিষ্ঠান কাজ পেলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে এই তিনটি টেন্ডার পুনরায় আহ্বান করা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে পটিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র বলেন, ‘জাতীয় ই–জিপি সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কোনো সুযোগ নেই। বিধি অনুযায়ী যোগ্য দরদাতাই কার্যাদেশ পেয়ে থাকে। কোনো ঠিকাদারের অভিযোগ থাকলে তারা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী লিখিতভাবে অভিযোগ করতে পারেন।
পটিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, এ বিষয়টি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে কারো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। হয়তো আজ (মঙ্গলবার) দিতে পারে। অভিযোগ হাতে পেলে ক্ষতিয়ে দেখা হবে।










