২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর নামে সরকার নির্ধারিত ফি’র কয়েকগুণ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে করা মামলার আসামি ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের ব্যক্তিগত সম্পদও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুদক জানিয়েছে, শ্রমবাজারে দুর্নীতির অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক। এসব মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২১৩ জনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করেছে কমিশন। মামলাগুলোতে ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ ৭ হাজার ৯৮৪ কোটি ১৫ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়। দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত–২ শাখার পরিচালক (বর্তমানে এলপিআররত) এস এম এম আখতার হামিদ ভূঞা স্বাক্ষরিত একটি পত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। খবর বাসসের।
সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশপ্রাপ্তদের একজন প্রান্তিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরিজম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে নিজ নামে ও বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৬(১) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাকে, তার স্ত্রী এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে অর্জিত সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দায়–দেনা, আয়ের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ আদেশ প্রাপ্তির ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে কমিশনে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত নোটিশপ্রাপ্ত ১৬৭ জন কমিশনে তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন। এসব বিবরণী যাচাই–বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জানতে চাইলে দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে। আরও কয়েকজনের নামে নোটিশ জারির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জালিয়াতির শীর্ষে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি–মন্ত্রীরা :
মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এবং রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের বিরুদ্ধে একটি ধাপে পৃথক ১২টি মামলা করেছে দুদক।
অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল), সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুস সোবহান ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।











