ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণের হাইকোর্টের দেওয়ার আদেশ বাস্তবায়ন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে আপিলে যাবে না সংস্থাটি। গতকাল সোমবার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নুসরাত তাবাসসুম কমিশন নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পরে মনোনয়নপত্র ইসির প্রাপ্তি ও জারি শাখায় দাখিল করেন। পরে তা রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেননি। ফলে তার প্রার্থিতা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরপর নুসরাত আদালতের দ্বারস্থ হলে গতকাল তা গ্রহণ করার জন্য ইসিকে নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের পরে কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে হাইকোর্ট আদেশ দেওয়ায় কমিশন আপিল করবেন কিনা, জানতে চাইলে আব্দুর রহমানের মাছউদ বলেন, আমরা আদেশ বাস্তবায়ন করবো। কোনো আপিলে যাবো না। কেননা, মামলায় আমাদের তো পক্ষভুক্ত করা হয়নি। খবর বাংলানিউজের।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম–সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান বলেন, এনসিপির প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আইন অনুযায়ী তা গ্রহণের সুযোগ নেই বলে তা বাছাইয়ের তালিকায় রাখা হয়নি। মাননীয় আদালত এখন নির্দেশনা দিয়েছেন তা গ্রহণের। এই নির্দেশনা এসেছে কমিশনের প্রতি। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়ে যে নির্দেশনা দেবেন, তাই বাস্তবায়ন করা হবে।
হাইকোর্ট নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে তা আইন অনুযায়ী বিবেচনায় করতে বলেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এখানে আইন অনুযায়ী বিবেচনা বলতে মনোনয়নপত্র গ্রহণের পর তা বাছাই করা হবে। বাছাইয়ে বৈধ হলে এবং কেউ আপিল না করলে বা আপিল করলে সেখানে তিনি টিকে গেলে প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে থাকবেন।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা। এই সময়ের মধ্যে ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১৩ জন (নুসরাত জমা দেন ৪টা ১৯ মিনিটে), স্বতন্ত্র জোটের একজন ও ব্যক্তিগতভাবে তিন প্রার্থী জমা দেন। এদের মধ্যে ২২ ও ২৩ এপ্রিল বাছাইয়ে জামায়াত জোটের নুসরাতের মনোনয়নপত্র তালিকার বাইরে থেকে যায়। বাছাইয়ে জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন তার সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর সময় অতিবাহিত না কারণে অবৈধ হন। এই জোটের টিকে যান ১২ জন। স্বতন্ত্রদের জোটের প্রার্থীও বৈধ হন। বিএনপি জোটের ৩৬ জনই টিকে যান। আর ব্যক্তিগতভাবে মনোনয়নপত্র জমাদানকারী তিনজনের মধ্যে একজন প্রত্যাহার করেন ও দুজন অবৈধ হন।











