নির্বাচন সামনে রেখে নেতাদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : প্রেস সচিব

| বুধবার , ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারের কাজ করার কথা তুলে ধরেছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে সরকার প্রার্থী ও নেতাদের আলাদাভাবে নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা করেছে কি নাএমন প্রশ্নে প্রেস সচিব বলেন, এটা নিয়ে কিন্তু আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে, আমাদের নিরাপত্তা যারা দেখেন, যে এজেন্সিগুলো তারা কথা বলেছেন। যাদের যাদের নিরাপত্তা দরকার, তাদের অনেককেই গানম্যান দেওয়া হয়েছে। আপনি পুরো তালিকা পুলিশের কাছে পাবেন, দলগুলোর কাছেও পাবেন। অনেকে এ বিষয়ে বলতেও চান না, সেজন্য আমরা বলছিও না। কিন্তু নিরাপত্তা, রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিরাপত্তা অবশ্যই আমাদের একটা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সেটা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। বিশেষ করে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ এটা নিয়ে খুব কাজ করছে। আর এরপরও যদি স্থানীয় পর্যায় থেকে তারা নিরাপত্তা চান, সেটা পুলিশ অবশ্যই খতিয়ে দেখবেতাদের কতটুকু প্রয়োজন। খবর বিডিনিউজের।

ব্রিফিংয়ে যশোরে সোমবার এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে কথা বলেন সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ। বলেন, নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ধর্ম কিংবা সাংবাদিকতার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, যিনি ভিকটিম, যিনি খুন হয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে একটি হত্যা মামলার আসামি। তিনি আওয়ামী লীগের একজন নেতা এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই অঞ্চলে আপনারা জানেন যে চরমপন্থি রাজনীতির একটি পুরোনো ইতিহাস রয়েছে। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে তাদের নিজেদের মধ্যেই একাধিক দলাদলি রয়েছে।

এ বিষয়ে কোনো ধরনের ধর্মীয় বা সাংবাদিকতার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি চরমপন্থি রাজনীতির পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন। এ বিষয়ে যারা জড়িত, তাদের ধরার জন্য এবং যাবতীয় তদন্ত ইতিমধ্যে পুলিশ শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, কিছু জায়গায় এখনও ‘নির্বাচন হবে কি না’, এমন বক্তব্য শোনা যাচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়েছে, কমিশন যেন আপিল শুনানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাত, রাগ বা বিরাগ দ্বারা প্রভাবিত না হয়। ফয়েজ বলেন, বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র নানা ত্রুটির কারণে বাতিল হয়েছে। এসব বিষয়ে আপিল শুনানিতে কেবল তথ্যউপাত্তের প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কে কোন দলের প্রার্থী বা কতটা প্রভাবশালী, তা বিবেচনার বিষয় নয়। এখানে সবাই ন্যায়বিচার পাবেন। নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, যারা এখনও সংশয় তৈরি করছে, তাদের প্রোফাইল সরকার স্পষ্টভাবে জানে। তারা আগে কী (ছিল), তাদের ভূমিকা কী ছিল? তারা কেন সংশয় ছড়াচ্ছেন? নির্বাচনের ৩৭ দিন বাকি আছে। আমরা মনে করি আমরা খুবই ভালোভাবে প্রস্তুত আছি। তার ভাষ্য, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর আত্মবিশ্বাস আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। কারণ সমপ্রতি বাংলাদেশের ইতিহাসের তিনটি বড় ইভেন্টশরীফ ওসমান হাদির জানাজা, তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে বড় রাজনৈতিক সমাবেশ এবং বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সফলভাবে নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে।

গণভোটে অংশগ্রহণ বাড়াতে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারাদেশে প্রায় ৪ লাখ মসজিদ, অসংখ্য মন্দির ও গির্জার মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কাজ চলছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নেটওয়ার্ক গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় এই বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। প্রেস সচিব বলেন, স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বর্তমানে নির্বাচন না থাকায় চেয়ারম্যানদের আলাদাভাবে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেই। ‘হ্যাঁ’ ভোটটা গুরুত্বপূর্ণ, কেন আমরা এটা দিলে জুলাই সনদটা বাস্তবায়ন করতে চাই সেই বিষয়টা। এই গণভোটের মাধ্যমে পুরো ১০০ বছরের বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা থাকবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিগত আ. লীগ সরকার ছিল ভারতের সেবাদাস : সালাহউদ্দিন
পরবর্তী নিবন্ধরাঙামাটিতে গ্যাস সংকট, দোকানে সিলিন্ডার নেই