যুগ যুগ ধরে নারীর প্রতি যে বৈষম্য হয়ে আসছে তা দূর জরার জন্য অনেকদিন ধরেই জাতিসংঘ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নারীর অধিকার সম্পর্কে সবাইকে সজাগ করে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র, তৈরির প্রচেষ্টায় জাতিসংঘ ১৮৭৫ সালকে নারীবর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে। এর পর নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার জন্য আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। বিভিন্ন ওয়ার্কিং গ্রুপ, নারী জাতির মর্যাদা বিষয়ক কমিশন এবং সাধারণ পরিষদের মধ্যে পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে অলোচনা ও পর্যালোচনার সফল পরিণতিতে এই সনদ গৃহীত হয়। সকল জায়গায় নারী পুরুষের সমতার ভিত্তিতে বিবাহিত, অবিবাহিত, নির্বিশেষে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক নাগরিক ইত্যাদি সকল বিষয়ে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সেই সাথে জাডীয় পর্যায়ের আইন প্রণয়ন করে বৈষম্য মূলক আচরণের অবসানের জন্য সনদে আহবান জানানো হয়। এছাড়া কনভেনশনে পুরুষ ও নারীর মধ্যে সমতা তৈরি দ্রত সম্পন্ন করার জন্য এবং প্রচলিত যেসব সামাজিক সাংস্কৃতিক ধারা বৈষম্যকে স্থায়ী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে, সেগুলো পরিবর্তনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। ১৯৮০সালের ১মার্চ সনদে স্বাক্ষর হয় এবং এটি ১৯৮১সালের ৩সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। ইতিমধ্যে ১৫০টিরও অধিক দেশ এই কনভেনশন অনুমোদন করে সাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ এই দলিল অনুমোদন করে স্বাক্ষর করেছে ১৯৮৪ সালের ৬ নভেম্বর। সিডিও সনদে রয়েছে মোট ৩০টি ধারা। যেমন : বৈষম্যের সংজ্ঞা; বৈষম্য বিলোপের নীতি; নারীর মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং তা সংরক্ষণ; সমতা অর্জনের লক্ষ্যে সামাজিক ও বিশেষ ধরনের আইনের বিধান; নারী পুরুষের লিঙ্গ ভিত্তিক ভূমিকা; পতিতা ও দেহব্যবসা; নারীর রাজনৈতিক জীবনধারা ও অধিকার; আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ; নারীর জাতীয়তা ও নাগরিকত্ব; শিক্ষার সমান অধিকার’ কর্মসংস্থান; স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও পরিবার পরিকল্পনা; অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা, গ্রামীণ নারী; আইন সমতা; বিবাহ ও পারিবারিক আইন।আমরা চাই নারীর প্রতি সকল বৈষম্য দূর হোক। আগামীর বাংলাদেশ হোক নারী পুরুষের সম মতামত ও সম কাজের ভিত্তিতে। তবেই আমরা পাবো সুন্দর একটি বাংলাদেশ।











