হাসপাতালে রোগীর চাপ কমাতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর শুধু চিকিৎসার ব্যবস্থা বাড়ানোর পরিবর্তে খাদ্য উৎপাদন থেকে প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশন প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় চট্টগ্রাম থেকে এ ধরনের একটি নতুন অভিযাত্রা শুরু হতে পারে।
গতকাল চট্টগ্রামে রেস্তোরাঁয় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র্যালি শেষে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। এ সময় রেস্তোরাঁগুলোর রান্নাঘর, খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনব্যবস্থা, সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্নতায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়ার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান রেস্তোরাঁয় রান্না ও খাবার পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য সনদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেন। জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের চিন্তা করতে হবে আমরা কি হাসপাতালের লাইন আরো দীর্ঘ করব নাকি মানুষকে অসুস্থ হওয়ার আগেই সুস্থ রাখার চেষ্টা করব? দেশে হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা বাড়লেও রোগীর চাপ কমছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১০ বছর আগে হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপ কেমন ছিল এবং এখন কেমন, তা দেখতে হবে। হাসপাতাল বাড়লেও অনেক জায়গায় রোগীরা শয্যা পাচ্ছেন না। কেন এমন হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। তার মতে, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি রোগের কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আর রোগ প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হচ্ছে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা।
খাদ্যে অনিয়ম ঠেকাতে বছরের পর বছর অভিযান ও জরিমানা করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী পরিবর্তন আসেনি বলে জানান জেলা প্রশাসক। জরিমানার পরও কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের অনিয়ম আবার দেখা যাচ্ছে। এ কারণে শুধু জরিমানা ও শাস্তির ওপর নির্ভর না করে রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। শুধু জরিমানা করাই আমাদের দায়িত্ব নয়। যারা ব্যবসা করছেন, তাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।
জেলা প্রশাসন জানায়, ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর–গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ এবং ‘দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান–২০২৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল দুপুরে নগরীর সার্কিট হাউস থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের হয়। পরে স্টেডিয়াম এলাকার রেস্তোরাঁগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। একই সময়ে জেলার অন্য রেস্তোরাঁয়ও মালিক ও কর্মীরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালান।













