কোরবানির ঈদের ছুটিতে প্রতি বছরের মতো এবারও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। যান্ত্রিক জীবনের চাপ সামলে পরিবার, নিকটাত্মীয় ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দিনভর আনন্দে মেতেছিলেন বিভিন্ন বয়সী নারী–পুরুষ। নগরীর বিনোদন কেন্দ্র চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, ফয়’স লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ড, আগ্রাবাদ ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্ক, আগ্রাবাদ জাম্বুরি পার্ক, মেহেদীবাগ ওয়ার সিমেট্রি এবং পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঈদের দ্বিতীয়, তৃতীয় দিন এবং গতকাল চতুর্থ দিনও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল।
জানা গেছে, ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কে সার্কাস সুইং, বাম্পার কার, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, ফেরিস হুইল, পাইরেট শিপ, রেড ড্রাই স্লাইড, টর্নেডো ৩৬০ ডিগ্রি রাইড, ড্যান্সিং ক্যাঙ্গারু, সান–মুন রাইড, ইয়েলো ড্রাই স্লাইড, বাগ বাউন্স রাইডে চড়ে উচ্ছ্বাসে মাতে শিশুরা। এছাড়া ফয়’স লেক সী ওয়ার্ল্ডে শিশু–কিশোর এবং যুবক–যুবতীরা ডিজে গানের তালে তালে জলকেলিতে মেতেছিলেন। ওয়েভ পুলের ড্যান্সিং জোনে দল বেঁধে নাচে–গানে মেতেছিল কিশোর–কিশোরীরা। মধ্যবয়সীরাও বাদ যাননি। টিউবে চড়ে এবং মাল্টি স্লাইড ও ডোম স্লাইডে স্লাইডিং করে সময় কাটাতে দেখা গেছে তাদের। সী ওয়ার্ল্ডে পরিবারের সাথে ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাজরিন বলেন, ব্যস্ততার কারণে সাধারণত সী ওয়ার্ল্ডে আসা হয় না। তবে ঈদ এলে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে এখানে ছুটে আসি। প্রায় চার ঘণ্টা সবার সাথে হৈ হুল্লোড় করে সময় কাটিয়েছি। অনেক বছর পর এসে খুব আনন্দ করেছি।
ফয়’স লেক পার্কে আসা স্কুল শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ বলেন, প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে আমি ফয়’স লেকে আসি। এখানে অনেক মজার মজার রাইড আছে। ঈদের ছুটি ছাড়াও সুযোগ পেলে আব্বু–আম্মুর সাথে ফয়’স লেকে আসি। অনেকগুলো মজার মজার রাইডে চড়েছি।
ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ব্যবস্থাপক (বিপণন) বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, কোরবানির ঈদের প্রথম দিন হাজারখানেক দর্শনার্থী ছিল। দ্বিতীয় দিন ছিল আড়াই থেকে তিন হাজারের মতো। তবে তৃতীয় দিন দর্শনার্থী সংখ্যা বেড়েছে। তৃতীয় দিন ৬ হাজার এবং গতকাল চতুর্থ দিন দর্শনার্থী ছিল ৫ হাজারের বেশি।
আগ্রাবাদ ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্কেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বিশেষ করে শিশু–কিশোররা ঈদের ছুটি উপভোগ করেছে।
ওয়ান্ডারল্যান্ড গ্রুপের জেনারেল ম্যানজার সোহরাব হোসেন বলেন, পার্কে শিশুরা বিভিন্ন রাইডে চড়ে আনন্দ উপভোগ করেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে পার্কটি নতুনভাবে চালু হয়েছে। পার্কে এলইডি ফ্লাওয়ার সংযোজন করা হয়েছে, যা দেখে দর্শনার্থীরা বিমোহিত হচ্ছেন। এছাড়া রয়েছে ডাইনো কার, বেবি রেসিং, জাম্পিং, জঙ্গল জাম্পার, মিনি ফুটবলের মতো মজার মজার রাইড।
অপরদিকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে নেচে গেয়ে সময় কাটান দর্শনার্থীরা। পরিবার–পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয় সৈকত এলাকা। এছাড়া অনেক চট্টগ্রাম আউটার রিং রোড দিয়ে ডিসি পার্কে গিয়েও সময় কাটান।












