নগরীর বড় অংশ দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন, ভোগান্তি

গ্রিড বিপর্যয় কারণ জানতে কমিটি

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ at ৬:৫১ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন লাইনে আকস্মিক ট্রিপের পর গ্রিডে ফ্রিকোয়েন্সি অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামের বড় একটি অংশ প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল। গ্রিড বিপর্যায়ের কারণে গতকাল দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে একযোগে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দেড় থেকে পৌনে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তীব্র গরমের মধ্যে ওইসব এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। এদিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বড় অংশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)। কোম্পানিটি বলছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ বিপর্যয়ের পর সব এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনতে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। এর প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় ঠিক করতে প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে পিজিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে বেলা আড়াইটায় জাতীয় গ্রিডের রেস্টোরেশন কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়ে বলা হয়, উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষিপ্ত লোডশেডিংও কমে আসবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে।

পিডিবির সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান, জাতীয় গ্রিডে সম্পূর্ণ বিপর্যয় এড়ানো গেলেও বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। মূলত কারিগরি ত্রুটির কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে।

পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ আজাদীকে বলেন, জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট থেকে চট্টগ্রামের কিছু কিছু এলাকায় কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। পুরো মেট্রোপলিটন (শহর এলাকা) এলাকায় বন্ধ ছিল না। দুপুরের পর থেকে আস্তে আন্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) চট্টগ্রাম খুলশীর স্কাডা ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে চট্টগ্রামের কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কঙবাজার, দোহাজারী, হাটহাজারী ও শাহমীরপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু ছিল। পুরো শহরে সব জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল না। বেশ কিছু সাবস্টেশন চালু থাকলেও গ্রিডের কাজের কারণে সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। দুপুর দেড়টায় কিছু কিছু সাবস্টেশন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করেছি। সোয়া ২টায় জাতীয় গ্রিড থেকে আমাদেরকে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেয়।

বিকালে বিদ্যুৎ বিভাগের এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইতোমধ্যে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল করা হয়েছে। বাকি এলাকাগুলোতেও স্বল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সাময়িক এ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুই দিন পেছাল এইচএসসির ফল, প্রকাশ শনিবার যেভাবে জানা যাবে
পরবর্তী নিবন্ধবাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর