নগরীর নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং পানি সংকটাপন্ন এলাকায় নিরাপদ ও সাশ্রয়ী খাবার পানি সরবরাহের লক্ষে পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১০০টি পানির এটিএম বুথ স্থাপনে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের সাথে চুক্তি করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির আওতায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে নগরীতে আনুমানিক প্রথমে ১০০টি পানির এটিএম বুথ স্থাপন করা হবে। ওয়াটারএইড বাংলাদেশ এসব বুথের মূলধনী যন্ত্রপাতিতে অর্থায়ন করবে। পাশাপাশি পানির গুণগত মান পরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পানি শোধনের ব্যবস্থা করবে।
গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড কক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো বুথে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা সমাধানের নিশ্চয়তা দেবে ওয়াটারএইড। কোনো বুথ ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ থাকলে বিকল্প সাময়িক পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হবে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, পানির এটিএম বুথ শুধু পানি সরবরাহের একটি ব্যবস্থা নয়, মানুষের প্রয়োজনের জায়গায় নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ। তিনি জানান, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে পরবর্তীতে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য গভীর নলকূপ এবং লবণাক্ততাপ্রবণ এলাকায় রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্রযুক্তিতে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এই চুক্তির আওতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে পানির এটিএম বুথ স্থাপন। মহানগরীর যে সব এলাকায় পানির সংকট রয়েছে এবং যেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী খাবার পানির প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে পানির এটিএম বুথ স্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ পানি আরও সহজলভ্য করাই হলো এই চুক্তির মুল উদ্দেশ্যে।
চুক্তি অনুযায়ী ওয়াটারএইড বাংলাদেশ চট্টগ্রাম ওয়াসার পাম্প বা সরবরাহ লাইনের পানির গুণগত মান মূল্যায়ন করবে এবং পানির গুণগত মানের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পানি শোধন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার সহায়তায় পাইলট সময়কালে এটিএম বুথগুলোর জন্য কেবল জমি প্রদান করবে, সমস্ত ক্যাপিটাল ইকুইপমেন্ট (মূলধনী যন্ত্রপাতি) ওয়াটারএইড বাংলাদেশ দ্বারা অর্থায়ন করা হবে। জায়গা প্রাপ্তিতে সমস্যা হলে আলোচনা সাপেক্ষে সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে জায়গা গ্রহণের বিষয়ে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অনুমতি ব্যতীত সরাসরি খুচরা পানি বিক্রি এবং বিতরণ করতে পারবে না, বুথগুলোতে সমস্ত পানি বিক্রি অবশ্যই সরাসরি ওয়াটারএইড বাংলাদেশ অনুমোদিত কর্মী বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত করতে হবে। আনুমানিক ১০০টি ওয়াটার এটিএম বুথ চালু না হওয়া পর্যন্ত পাইলট পর্যায়টি চলবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশ শুধু একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করছে না, বরং চট্টগ্রাম নগরীর পানি সেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে আগামী তিন বছরের একটি যৌথ পথচলার সূচনা করছে। নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী, পানি সংকটাপন্ন এলাকা এবং নিরাপদ খাবার পানির সীমিত সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর এই অংশীদারিত্ব চুক্তি অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমি মনে করি, পানির এটিএম বুথ শুধু পানি সরবরাহের একটি ব্যবস্থা নয়। এটি মানুষের প্রয়োজনের জায়গায় নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ। বিশেষ করে যেসব মানুষ প্রতিদিন পানির জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করেন, তাদের জন্য এই উদ্যোগ বাস্তব উপকার বয়ে আনবে।
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরবর্তীতে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন এবং যেসব এলাকায় লবণাক্ততার কারণে নিরাপদ খাবার পানির সংকট রয়েছে, সেখানে রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম ওয়াসার বিলিং সিস্টেমকে উন্নত ও গতিশীল করতে বিলিং অ্যাপস তৈরি, ওয়াসার পানির লাইন সমপ্রসারণ সহ আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এতে ওয়াটার এইড বাংলাদেশ এর পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে এবং এর সুফল সরাসরি চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তার বলেন, পানি সেবা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়। এর সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার মান এবং সামাজিক নিরাপত্তা সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই পানি সংকটাপন্ন ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। ওয়াটার এইড বাংলাদেশের নগরীর পানি ও স্যানিটেশন খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের কাজ এবং কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা ওয়াসার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগালে জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে বলে আমি আশাবাদী।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) শারমিন আলম, উপ–ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) বিষ্ণু কুমার সরকার, সচিব শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সাজিয়া পারভীন, প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, প্রধান রজাস্ব কর্মকর্তা রুমন দেসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ। ওয়াটার এইড বাংলাদেশ এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর পার্থ হেফাজ সেখ, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মো. তাহমিদুল ইসলাম, জোনাল লিড বাবুল বালাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।












