তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ার দায় আর বহন করতে চান না তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনকে শুধু সমর্থন নয়, কিছু করার থাকলে তাও করবেন তারা। তিনি এও বলেন, অতীতে কেন তিস্তা প্রকল্প বাস্তয়ায়ন হয়নি, তা সবাই বোঝে, শিশুও বোঝে। গতকাল মঙ্গলবার জামায়াতের আমির নিজের নির্বাচনি এলাকা ঢাকা–১৫ আসনে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন। চীনের সহযোগিতায় এই আয়োজনে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও উপস্থিত ছিলেন। খবর বিডিনিউজের।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, তিস্তা প্রকল্প উত্তরাঞ্চলের কান্না, সারা বাংলাদেশের কান্না, আমরা এই কান্নার অবসান চাই। কিন্তু অতীতে কেন বাস্তবায়ন হয় নাই, এটা সবাই বোঝে, শিশুও বোঝে। আমরা ওই লিগ্যাসি আর বহন করতে চাই না। তিনি বলেন, আমরা অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে জানিয়ে দিতে চাই, আমরাও স্বাধীন দেশের নাগরিক, আমাদের নিজস্ব পরররাষ্ট্রনীতি আছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধু সাপোর্ট নয়, কিছু করার থাকলেও তাও করবো।
মিরপুর–১০ নম্বরে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শফিকুর রহমান চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদীর্ঘ ৫০ বছরের। ১৯৭৬ সালে চীন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। তখন থেকে চীন বৃহৎ আন্তরিক পার্টনার, উন্নয়ন অংশীদার। তাদের বন্ধুত্বের নিদর্শন শুধু আজকের এই গ্যাদারিং (অনুষ্ঠান) না, আপনাদের পাশেই একটি সম্মেলন কেন্দ্র আছে, চীন বাংলাদেশ সম্মেলন কেন্দ্র। এটা পরিপূর্ণভাবে চীনের উপহার। পুরোটাই চীনের উপহার। বাংলাদেশের একটি টাকাও নাই। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বন্ধুত্বের নিদর্শন হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল। তারা এই কেন্দ্রের নাম পাল্টে তাদের বাপের নাম লিখে দিয়েছিল। শফিকুর রহমান বলেন, এটা চরম অকৃজ্ঞতা। এটা হতে পারে না। ভালোবাসার নিদর্শন থেকে নাম নিশানাই উঠিয়ে দেওয়া হল।
জামায়াত আমির বলেন, অনেকে বাংলাদেশকে কিছু না দিয়ে, বাংলাদেশ থেকে সব কিছু নিয়ে যখন–তখন হস্তক্ষেপ করেছে, কিন্তু চীন করেনি। চীন অবিরত বন্ধুর পরিচয় দিয়ে চলেছে। আমরা আশা করবো অতীতের চাইতেও আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রিয় বন্ধু রাষ্ট্র চীন আরও বেশি উদ্যোগী হয়ে বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।
সারা বিশ্বের সভ্য সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করতে চান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, একটা কথা খুব পরিষ্কার, আমাদের ঘাড়ের ওপর আমরা কারও আধিপত্য মেনে নেব না। অতীতে নেওয়া বোঝা ফেলে দিয়েছি, এই বোঝা জাতি আর নিজের ঘাড়ে ওঠাবে না। যুব সমাজ একদম এটা সহ্য করবে না। বুক উঁচু করে বাঁচতে চায়, বিশ্বের বুকে পরিচয় দিতে চায় আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি।












