সীতাকুণ্ড থানাধীন আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক পাকা করতে জরুরি ভিত্তিতে ১৬ কোটি টাকা চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডকে দিয়ে উক্ত তিনটি সড়ক পাকা করতে গত ২০ মার্চ জেলা প্রশাসন এ চিঠি দেয়। চিঠি দেওয়ার এ বিষয়টি গতকাল দৈনিক আজাদীকে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাশক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। জেলা প্রশাসনসূত্র জানায়, ৩ হাজার ১০০ একরের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস দমন ও নজরদারি কার্যক্রমে গতি আনতে তিনটি সড়ক জরুরি ভিত্তিতে পাকা করা দরকার। সে জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ থোক বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, অবকাঠামো না থাকায় এবং এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় স্থাপিত ক্যাম্পে প্রয়োজনীয় খাবার, পানি, রসদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নির্বিঘ্নে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক করতে তিনটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা দরকার। চিঠিতে বলা হয়, তিনটি সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার। এ তিনটি সড়ক নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি হলো বায়েজিদ লিংক রোড থেকে কালা পানিয়া বেতুয়া সড়ক হয়ে হাটহাজারী বাজার লিংক সড়ক পর্যন্ত উন্নয়নকাজ। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া জলিল টেঙটাইল থেকে আলীনগর প্রাইমারি অ্যান্ড হাইস্কুল সড়ক উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা এবং ছিন্নমূল বিদ্যুৎ অফিস থেকে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট এম আর চৌধুরী ফায়ারিং রেঞ্জ সড়ক উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর মূলত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা।
এ বিষয়ে গতকাল জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুর থেকে পিছু হঠার সুযোগ নেই। সন্ত্রাসীদের নির্মুলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাদের দমনে কঠোর অবস্থানে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সার্বিক বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা দৈনিক আজাদীকে বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২ টি ক্যাম্প রয়েছে। সন্ত্রাসীরা পেছন থেকে এসে ক্যাম্পগুলোতে হামলা করছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় সন্ত্রাসীদের ধরা যাচ্ছে না। অত্র এলাকায় থাকা মানুষের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ের প্রয়োজনে সেখানের তিনটি সড়ক পাকা করা প্রয়োজন। ৬ দশমিক ২ কিলোমিটারের এ সড়কগুলো পাকা করা গেলে সন্ত্রাসীদের ধরা সহজ হবে। আমরা প্রত্যাশা করছি, সড়কগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে পাকা হয়ে যাবে।












