তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকায়নে সরকারি সেবায় দুর্নীতি অবসান সম্ভব

বিপিও সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

| রবিবার , ২১ জুন, ২০২৬ at ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী অটোমেশনের মাধ্যমে সরকারি সেবা খাত থেকে সব ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতির অবসান ঘটানো সম্ভব বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।

গতকাল শনিবার নগরীর একটি কনভেনশন হলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) আয়োজিত বিপিও সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘হোয়ার ট্যালেন্ট মিটস গ্লোবাল অপরচুনিটি’।

প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ভূমি মন্ত্রণালয়ের আধুনিকায়নে গৃহীত নানা বৈপ্লবিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, জনসাধারণের ভোগান্তি দূর করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ সেবা এখন পুরোপুরি অনলাইন ও অটোমেটেড করা হয়েছে। নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই ‘ভূমি’ অ্যাপের মাধ্যমে ট্যাক্স প্রদান ও নামজারিসহ (মিউটেশন) বিভিন্ন আবেদন ও অভিযোগ দাখিল করতে পারছেন। পাশাপাশি, যারা অনলাইনে অভ্যস্ত নন, তাদের জন্য দেশব্যাপী ৮৯৩টি ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেখানে নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ী অত্যন্ত স্বল্প খরচে নাগরিকরা অনলাইন সেবা পাচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে ‘জিও ফেন্সিং’ প্রযুক্তির যুগান্তকারী ব্যবহারের কথা জানিয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে একটি অ্যাপের পাইলটিং শুরু করেছি। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের ভূমি কর্মকর্তা অফিস চলাকালীন (সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা) কর্মস্থল ত্যাগ করলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল সংকেত চলে আসবে। এই প্রযুক্তির ফলে অত্যন্ত কম খরচে প্রান্তিক পর্যায় থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে।

দেশের ফ্রিল্যান্সার ও তরুণদের মেধার ভূয়সী প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল বলেন, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী ও কঠোর পরিশ্রমী। প্রাতিষ্ঠানিক বড় সহযোগিতা ছাড়াই তারা স্বশিক্ষিত হয়ে ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে বিশ্ব দরবারে নিজেদের স্থান করে নিয়েছে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে যদি এই তরুণদের আরো কিছু বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেক্টরে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। তিনি আইটি খাতের টেকসই উন্নয়নে মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত চাহিদা ও তরুণদের সেন্টিমেন্ট বুঝে বেসরকারি খাতকে সাথে নিয়ে নীতিমালা বা পলিসি মেকিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের উপসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন, বাক্কো কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আলিম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাক্কো কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মো. তানজিরুল বাসার, অর্থ সম্পাদক মো. আমিনুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মুসনাদআহমদ, পরিচালক আবু দাউদ খান, পরিচালক আব্দুল কাদের এবং পরিচালক সায়মা শওকত। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাংস্কৃতিক গোলামী জাতিকে ভিতর থেকে ধ্বংস করে দেয়
পরবর্তী নিবন্ধচব্বিশের গণঅভ্যুত্থান উৎসব ক্রিকেট টুর্নামেন্টে আজকের খেলা