টার্মিনাল ইজারার উদ্যোগের প্রতিবাদে বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান ৫ অক্টোবর

বন্দর রক্ষা কমিটির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে ঘোষণা

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কন্টেনার টার্মিনাল (সিসিটি) বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে আগামী ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বন্দর রক্ষা কমিটি। ওইদিন সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন কমিটির নেতারা। এর মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া হলে কর্মসূচি আগেই শেষ করার কথাও জানানো হয়েছে। অন্যথায় অবস্থান কর্মসূচি শেষে পরবর্তী বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গতকাল সোমবার নগরীর বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে বন্দর রক্ষা কমিটির উদ্যোগে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিল শেষে বন্দরের ২ নম্বর গেইট এলাকায় আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। মিছিলটি বন্দর ভবন পর্যন্ত যাওয়ার কথা থাকলেও পুলিশি বাধায় ২ নম্বর গেইট এলাকায় থামিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানেই সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা।

সমাবেশে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, এনসিটি ও সিসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিরোধিতা করে তাদের আন্দোলন কোনোভাবেই সরকারবিরোধী নয়। এটি জনগণের স্বার্থ রক্ষার আন্দোলন। জনগণের সরকারকে জনগণের স্বার্থের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করাই তাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, এ দাবিতে তারা এর আগে প্রতীকী অনশন, সংবাদ সম্মেলন, গোলটেবিল বৈঠক, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। এবারই প্রথম বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। তবে পুলিশের অনুরোধে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সে কারণে ২ নম্বর গেইট এলাকায় মিছিল শেষ করা হয়েছে।

দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘আগামী ৫ অক্টোবর সকাল ১১টায় বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান শুরু হবে। সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা সেখানে থাকব। এর মধ্যে যদি আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়, তাহলে তার আগেই কর্মসূচি শেষ হবে। দাবি মেনে না নিলে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

সমাবেশে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এর মধ্যে সরকারের অবস্থানের পরিবর্তন না হলে সেখান থেকেই বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে অনুরোধ করব ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এই চুক্তির প্রক্রিয়া থেকে সরে আসতে। এনসিটি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। তারাই এটি পরিচালনা করুকএটাই আমাদের দাবি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনা বিদেশি কোনো কোম্পানির হাতে আমরা দিতে দেব না।’

এর আগে বারিক বিল্ডিং মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ, শ্রমিকদের অধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, বন্দরের সম্পদ ও অবকাঠামো জনগণের সম্পদ। বন্দরের পরিচালনা ও সক্ষমতার সঙ্গে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও স্বার্থ জড়িত। তাই এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এনসিটি ও সিসিটি পরিচালনার নামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হলে তার প্রভাব ভবিষ্যতে দেশের জন্য নেতিবাচক হতে পারে।

কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত বর্তমান সময়ে বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। তাই এর গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না।

বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সমাবেশে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সহসম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, ন্যাপ নেতা মিটুল দাশগুপ্তসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনিলামে পুরনো খালি কন্টেনারসহ ২১০ লট বিভিন্ন ধরনের পণ্য
পরবর্তী নিবন্ধজড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি কর্তৃপক্ষ