নগরে আজ মঙ্গলবার সারা শহরে গ্রাফিতি আঁকার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপি। গতকাল বিকেলে নগরের ষোলশহর স্টেশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এসময় এনসিপি নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, টাকার জন্য সিটি মেয়র গ্রাফিতি মুছে দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ফ্লাইওভারের পিলারে জুলাই–বিপ্লবের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি ছিল। সবগুলো পিলারের গ্রাফিতি মুছে দিয়ে অ্যাড–এর জন্য বিজ্ঞাপন দিল। খবর পেয়ে ভাই–বোন, ছাত্র–জনতাসহ আমরা আবেগের জায়গা থেকে সেখানে যাই (রোববার দিবাগত রাতে)। কিন্তু বিএনপি সরকার দলীয় লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলার চেষ্টা করে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মহানগরের সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, রাত ৮টায় ( গতকাল সোমবার) টাইগার পাস মোড়ে এবং আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) শহরজুড়ে গ্রাফিতি আঁকা হবে।
তিনি বলেন, এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ের পিলার থেকে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপনের জন্য মুছে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পরে সমালোচনার মুখে চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, নতুন করে গ্রাফিতি আঁকার উদ্দেশ্যে সেগুলো সরানো হয়েছে। মেয়র টাকার জন্য জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলেছেন। ‘কন্টাক্ট ফর অ্যাড’ লেখা হয়েছে সেখানে। উনি গতকাল থেকে নাটক করছেন। উনি বলেছেন ছাত্রদলকে দিয়ে গ্রাফিতি করানো হবে। কিন্তু ‘কন্টাক্ট ফর অ্যাড’ লেখাটা এখনো রয়ে গেছে। উনি মিথ্যা বলছেন। মুছলে আবার করে ফেলতেন। বিজ্ঞাপনের জন্য উনি এটা করেছেন।
তিনি বলেন, গ্রাফিতি অঙ্কন করার সময় পুলিশ জুলাইয়ে সম্মুখসারির নারী যোদ্ধাদের গায়ে হাত দিয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দিলে কী হয়– পুলিশ জুলাই থেকে শিক্ষা নেয়নি।
আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, উনি বলেছেন সামনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা রাজনীতি করছি। রাজনীতি উনি শুরু করেছেন। গ্রাফিতি কি আমরা মুছেছি? আমরা কি লাগিয়েছি কন্টাক্ট ফর অ্যাড? উনি যদি দুপুরের মধ্যে আবার আঁকা শুরু করতেন, তাহলে তো আমরা রাজনীতি করার সুযোগ পেতাম না।
আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতায় মানুষ ডুবে মরে যায়, উনার (মেয়র) কোনো হুঁশ থাকে না। বৃষ্টি নামলে রেইনকোর্ট একটা পরে নাটক করতে আসেন। কেন আপনি বৃষ্টি হওয়ার আগে বুঝেন না। সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ উনি।
তিনি বলেন, শহরের মধ্যে মাঠ দখল করে উনি পার্ক করছেন। পার্কের মডেলের মধ্যে দোকান দেওয়া আছে। উনি যত কিছুই করবেন দেখবেন একটা দোকান দেওয়া আছে। উনার মূল হচ্ছে বিজনেস। সম্পূর্ণ সিটি কর্পোরেশনকে, মানে একটা সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে উনি নষ্ট করে সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান শাহাদাত আলম এন্টারপ্রাইজে পরিণত করেছেন।
আরিফ বলেন, চট্টগ্রামবাসীকে উনি জিম্মি করে শহরকে দখল করা শুরু করেছেন। শহর মানে স্পেস, যেদিকে তাকাবেন সবুজ ও খালি স্পেস দেখবেন, যেখানে আপনি ঘুরবেন আড্ডা দিবেন ও বউ বাচ্চা নিয়ে সময় কাটাবেন। কিন্তু এখন যেদিকে তাকান প্রথমত উনার ছবি দেখবেন। দ্বিতীয়ত বড় বড় ডিজিটাল স্ক্রিন। দুই নাম্বার গেইট, আগ্রাবাদ, নিউ মার্কেট বসাচ্ছে এই স্ক্রিনগুলো। বিরক্তিকর শহর বানায় ফেলছে।













