সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদির শৈশব, তার সংগীত জীবনের সূচনা, বাংলাদেশের সংগীতের বিবর্তন, সমকালীন শিল্পচর্চা নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানে হয়েছে টেলিভিশনের পর্দায়। গতকাল বুধবার এই বর্ষীয়ান শিল্পীর ৮৬তম জন্মবার্ষিকীতে চ্যানেল আইয়ে বিকাল ৫টায় প্রচার হয় প্রামাণ্যচিত্রটি।
বিজ্ঞপ্তিতে চ্যানেল আই বলেছে, বিশেষ সাক্ষাৎকারধর্মী প্রামাণ্যচিত্রটির নাম ‘গল্প আছে এখানে’; নির্মাণ করেছেন শাইখ সিরাজ। ষাটের দশকে ‘কিছু বলো’ গানটি বেতারে গেয়েছিলেন আব্দুল হাদী, সেই থেকে শুরু। দশকের পর দশক ধরে সংগীতে অবদান রাখা এই শিল্পী এখন আর গান করছেন না। খবর বিডিনিউজের।
১৯৪০ সালের পয়লা জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া সৈয়দ হাদী শৈশব–যৌবন কাটিয়েছেন তার দাদার আগরতলার বাড়িতে। তার দাদা ছিলেন আগরতলা কোর্টের আইনজীবী।
সৈয়দ হাদী ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি ‘ইয়ে ভি এক কাহানি’ সিনেমায় কণ্ঠদিয়ে জনপ্রিয়তার সিঁড়ি খুঁজে পান। এরপর আর থেমে থাকেননি। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র সম্মাননা। ২০০০ সালে পেয়েছেন একুশে পদক।
বাঙালির হৃদয়ে গেঁথে থাকা তার একক গানের অ্যালবামগুলো হচ্ছে ‘একবার যদি কেউ’, ‘পৃথিবীর পান্থশালায়’, ‘একদিন চলে যাব’, ‘কথা বলব না’, ‘মেঘের পালকি’, ‘যখন ভাঙল মিলন মেলা’, ‘নিয়তি আমার’, ‘হাজার তারার প্রদীপ’ ইত্যাদি। তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আছেন আমার মুক্তার’, ‘আমি তোমারি প্রেম ভিখারি’, ‘চোখ বুজিলেই দুনিয়া আন্ধার’, ‘চোখের নজর’, ‘চলে যায় যদি কেউ’, ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসত’, ‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘যেও না সাথী’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘কী করে বলিব’, ‘কেন তারে আমি ভালোবেসেছিলাম’, ‘সতি মায়ের সতি কন্যা’, ‘তোমাদের সুখের নীড়ে’, ‘কারো আপন হইতে’, ‘যে মাটির বুকে’, ‘কথা বলব না বলেছি’, ‘জানি তুমি চলে যাবে’, ‘সখী চল না জলসা ঘরে’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তে তুমি’।












