তিনি অ্যালবাম বের করেছেন সাকুল্যে সাতটি, কিন্তু যা করেছেন সেটাই ইতিহাস হয়ে গেছে। তিনি শিল্পী–সুরকার লাকী আখান্দ। তারুণ্যের আবেগ সুরে বেঁধে ‘এই নীল মণিহার’, ‘আমায় ডেকো না’, ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’, ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, ‘মামনিয়া’র মত আরও কিছু গানের মাধ্যমে কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার মনে লাকী আখান্দ একটি স্থায়ী নাম। সত্তর ও আশির দশকে বাংলা গান যাদের হাত ধরে আধুনিকতার পথে হাঁটতে শুরু করে, তাদের মধ্যে লাকী আখান্দ অন্যতম। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সেই পথ চলা সহজ ছিল না। কিন্তু লাকী আখান্দ বহুমাত্রিক সুরে নিজেকে প্রমাণ করেছেন বারবার। ফোক ফিউশনের সঙ্গে পাশ্চাত্য সুরের সংমিশ্রণে লাকীর সৃষ্টি ছিল অনবদ্য। বিশেষ করে স্প্যানিশ সুরের প্রভাব এবং দেশীয় ধ্রুপদী ও ঠুমরির সুরও খেলেছে তার গানে। কাওসার আহমেদ চৌধুরীর লেখা ‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে’ গানটি নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর কণ্ঠে তিনি তুলে দিয়েছিলেন ধ্রুপদী ও গজল ঘরানার সুরে। খবর বিডিনিউজের।
অভিন্ন সুর অথচ ভিন্ন ভিন্ন সংগীত আয়োজনে গান তৈরি করে স্বতন্ত্র সংগীতভুবন গড়েছিলেন। এতে করে শ্রোতারাও পায় নতুনত্বের স্বাদ। নয় বছর আগে ২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল ফুসফুসের ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে পরাস্ত হয়ে চিরবিদায় নেন তিনি। অভিমানী শিল্পী সেই আশির দশকেই গেয়ে গেছেন, আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না/ ফেরারী পাখিরা কুলায় ফেরে না।














