আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের অভিযান শুরু করছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আগামীকাল বুধবার সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে এ দুই দল মাঠের লড়াইয়ে নামবে। কোচ স্কালোনি আলজেরিয়ার বিপক্ষে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য শুরুর একাদশ এবং আনুষ্ঠানিক দল চূড়ান্ত করেছেন। এতে মেসির প্রথম একাদশে জায়গা নিশ্চিত। দলে শেষ মুহূর্তে সেন্টার–ব্যাক মার্কোস সেনেসিকে দলে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনা স্কোয়াডের সকল খেলোয়াড়ই এখন উপস্থিত আছেন। দলের সদস্যরা সবাই সুস্থ আছেন এবং তারা এখন একসাথেই অনুশীলনে আছেন। জুলিয়ান আলভারেজ, পারেদেস, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নিকো পাজ, নিকো গঞ্জালেজ, মলিনা এবং মন্তিয়েল দলের বাকিদের সাথে অনুশীলন করেছেন। এই খেলোয়াড়রা সমপ্রতি চোটে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পায়ের মাংসপেশির চোটের কারণে একমাত্র তাগলিয়াফিকো আলাদাভাবে অনুশীলন করেন। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ অনুশীলন শেষ করেছেন এবং উদ্বোধনী ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকার জন্য অনুশীলন আরও জোরদার করেছেন। মেসির মতো বাকিরা সম্পূর্ণ সুস্থ ও ফিট আছেন এবং কোচ স্কালোনি আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য একাদশ প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। কোচ স্কালোনির মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ইতোমধ্যেই বিদায় নেওয়া সেন্টার–ব্যাক বালের্দি ছাড়া আর্জেন্টিনা দল এখনও কোনো খেলোয়াড় পরিবর্তন করেনি। এদিকে, লাউতারো মার্তিনেজ ঘোষণা করেছেন যে, প্রয়োজনে তিনি মেসির পরিবর্তে আলবিসেলেস্তেকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে আক্রমণে মেসির পাশাপাশি থিয়াগো আলমাদা ও আলভারেজ থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আলবিসেলেস্তেদের মাঝমাঠও নিশ্চিত হয়েছে, যেখানে থাকছেন এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার এবং ডি পল। রক্ষণভাগে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ফিরছেন এবং তার সাথে থাকবেন পরিচিত ডিফেন্ডার মলিনা, রোমেরো, ওতামেন্দি ও ফাকুন্দো মেদিনা।
ফ্রান্স–সেনেগাল
২০২৬ বিশ্বকাপ শিরোপার দাবিদারদের তালিকায় স্পেনের পরেই আছে ফ্রান্স জাতীয় দল। ২০২২ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় হওয়ার হতাশা মুছে ফেলার আশায় থাকা ভক্তদের কাছ থেকে তারা ব্যাপক সমর্থন পেয়ে চলেছে। খেলোয়াড় এবং কোচ উভয় হিসেবেই বিশ্বকাপজয়ী দিদিয়ের দেশম ২০২৬ বিশ্বকাপের পর ফরাসি জাতীয় দলের প্রধান কোচের পদ জিনেদিন জিদানের কাছে হস্তান্তর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তাই, এ বছরের টুর্নামেন্টটিকে দিদিয়ের দেশমের জন্য একটি নতুন রেকর্ড গড়া এবং ফরাসি দলকে বিজয়ের পথে নিয়ে যাওয়ার শেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ময়দানি লড়াইয়ে ফ্রান্সের চেয়ে অনেক দুর্বল প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত সেনেগাল। ইরাক এবং নরওয়েকে নিয়ে গড়া গ্রুপে ফ্রান্স দল শীর্ষে অবস্থান করবে এমনটাই ভাবা হচ্ছে।
গ্রুপ ‘আই’–এ ফ্রান্স বনাম সেনেগালের উদ্বোধনী ম্যাচটি ১৭ই জুন রাত ১টায় নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে। গত দুটি বিশ্বকাপে ফরাসি দলটি ফাইনালে পৌঁছেছিল, যার মধ্যে ২০১৮ সালে তারা শিরোপা জেতে এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টিতে হেরে রানার্স–আপ হয়। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে সামপ্রতিক ১–২ গোলের প্রীতি ম্যাচে পরাজয় ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কিছু সন্দেহ তৈরি করেছিল। তবে, আক্রমণে মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ফরাসি দলটি চার দিন পরেই উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩–১ গোলের জয় নিয়ে ছন্দে ফেরে।
কোনো পরাজয় ছাড়াই বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি, সেনেগাল টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। এর আগে ২০২২ সালে তারা শেষ ষোলো থেকে এবং তারপর রাশিয়ায় গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়েছিল। এর আগে, ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস–এর ফাইনালে সেনেগাল মরক্কোকে পরাজিত করেছিল। তবে, ফাইনালে একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ায় আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন পরে সেনেগালের কাছ থেকে শিরোপা কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে তা প্রদান করে।
শক্তিশালী স্কোয়াড, শীর্ষ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং দিদিয়ের দেশামের মতো একজন অভিজ্ঞ কোচ থাকায়, ফরাসি জাতীয় দল ইতিহাসে তাদের তৃতীয় শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। তাদের জন্য গ্রুপ পর্বকে তুলনামূলকভাবে সহজ বলে মনে করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সেনেগাল ফ্রান্সের অগ্রযাত্রা থামাতে খুব বেশি যে সক্ষম হবে তা ভাবছে না বিশেষজ্ঞরা।












