চাকরির পরীক্ষা দিতে বাড়ি আসার কথা ছিল রানার, এলো লাশ

শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনা

| রবিবার , ১৬ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ

সরকারি চাকরির পরীক্ষা দ্যাওয়ার জন্যে আজক্যা ছোলের বাড়িত আসার কথা আছিল, আইল হামার ছোলের লাশ।’ সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে নিহত গাইবান্ধা সদরের পশ্চিম কুপতলা গ্রামের রানা মিয়ার (২৩) মা মনোয়ারা বেগম বিলাপ করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন। গতকাল শনিবার দুপুরে অ্যাম্বুলেন্স যোগে রানা লাশ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। ছেলের লাশ দেখে বাড়ির উঠানের আর এক পাশে কান্না করছিলেন রানার বাবা বর্গাচাষি হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, অভাবের সংসার। ছোলটা মাসে মাসে ট্যাকা দিলো হয়, তাকে দিয়্যা কোনো মতে সংসারটা চলছিলো, এ্যাখোন হামাক ক্যাটা ট্যাকা দিবি।

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় নিহত ৯ জনের মধ্যে দুজনের বাড়ি গাইবান্ধায়। এর মধ্যে নিহত রানা মিয়ার বাড়ি সদর উপজেলার পশ্চিম কুপতলা গ্রামে। হারুন অর রশীদ বলেন, সম্প্রতি রানা গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন। ২১ আগস্ট সেই চাকরির লিখিত পরীক্ষা হবে। লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার জন্য শনিবার রানার বাড়ি আসার কথা ছিল। কিন্তু আসল লাশ হয়ে। খবর বিডিনিউজের।

বড়ভাই মোনারুল ইসলাম চট্টগ্রাম থেকে রানার লাশ নিয়ে সকাল ১০টায় বাড়িতে পৌঁছেন। গ্রামের বাড়িতে লাশ পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নাআহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে চারপাশ। এক নজর দেখতে প্রতিবেশীরা তার বাড়িতে ভিড় করেন। পরে জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মোনারুল ইসলাম বলেন, তারা দুই ভাই ও এক বোন। রানা মিয়া ২০২১ সালে পশ্চিম কুপতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২৩ সালে সাদুল্লাপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর অভাবের সংসারে সহযোগিতা করতে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামে একটি কারখানায় শ্রমিকের চাকরি নেয়। মোনারুলও চট্টগ্রামের অন্য একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সেখানে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বসবাস করেন। একমাত্র বোন পিংকির বিয়ে হয়েছে।

চট্টগ্রামের একই ঘটনায় নিহত হন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হলদিয়া গ্রামে খোকন মিয়া (২৬)। বাবা বর্গাচাষি রানা মিয়ার দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে উজ্জ্বল মিয়া কৃষি কাজ করেন। মেঝ মেয়ের বিয়ে হয়েছে। সবার ছোট ছিল খোকন। খোকনের স্ত্রী দুই বছরের সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। প্রায় ছয় মাস আগে খোকন চট্টগ্রামের ওই জাহাজ কোম্পানিতে চাকরি নেন। এদিন সকালে তারও লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে পৌঁছায়। দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

শুক্রবার সকালে জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে নয়জন নিহত হন। ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেনমতিউর রহমান (১৯), সানি জলদাস (২৩), পলাশ জলদাস (৩৫), হাবিবুর রহমান (৫১), মোহাম্মদ মনসুর (৫৫), নাসির উদ্দিন (৫১), আবদুল আলীম (৩৬), রানা মিয়া (২৩) এবং খোকন মিয়া (২৩)। এর মধ্যে সানি, পলাশ, হাবিবুর, মনসুর ও নাসির ভাটিয়ারীর বাসিন্দা। তাদের মধ্যে মনসুর ও নাসির দুই ভাই। এ ছাড়া খোকন ও রানার বাড়ি গাইবান্ধা জেলায় এবং আবদুল আলীমের বাড়ি পাবনা জেলায়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঘটনাস্থলে রেখেই চলছে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকার মেরামতের কাজ
পরবর্তী নিবন্ধকাপ্তাই পলিটেকনিকে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৩