মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে যদি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে স্বাবলম্বী করতে পারি, তাহলে শ্রমিক কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, চাকরি স্থায়ীকরণ, রাস্তা ড্রেন উন্নয়নসহ সব সেবামূলক কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। গতকাল বিকেলে নগরীর লালদীঘিস্থ চসিক পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে চসিক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন আয়োজিত নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন।
তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় চসিক প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার দেনায় জর্জরিত ছিল। কিন্তু সবার সহযোগিতা ও মহান আল্লাহর রহমতে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকার দেনা পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছি। এখন আমরা নিয়মিতভাবে ঠিকাদারদের পাওনা পরিশোধের চেষ্টা করছি। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের কাছ থেকে আইনানুগ হোল্ডিং ট্যাঙ আদায়ে চসিক কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পূর্বে যেখানে মাত্র ৪৫ কোটি টাকা কর নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেখানে নতুন মূল্যায়নের মাধ্যমে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য ২৬৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মেয়র আরও বলেন, বন্দরের ভারী যানবাহন প্রতিনিয়ত চসিকের সড়ক ব্যবহার করছে। এতে বছরে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার রাস্তা সংস্কার ব্যয় বহন করতে হয়। আমি কোনো ক্ষতিপূরণ চাই না, শুধু চসিকের ন্যায্য কর আদায় নিশ্চিত করতে চাই।
শ্রমিক কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চসিকের ইতিহাসে ১ হাজার ৫৫৭ জনকে স্থায়ী করার উদ্যোগ একটি সাহসী পদক্ষেপ। ধীরে ধীরে সবাইকে স্থায়ী করা হবে। এটি আপনাদের অধিকার।
ডোর টু ডোর পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রসঙ্গ তুলে মেয়র বলেন, যারা রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগর পরিষ্কার রাখছেন, তাদের জন্য বর্ষাকালে রেইনকোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের কল্যাণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, গত ঈদুল ফিতরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এবার ঈদুল আজহায়ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়া শ্রমিকদের আবাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৮০ কোটি টাকার সহায়তা চাওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদন দিয়েছেন।
চসিকের শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ৭৮টি স্কুল, ২৮টি কলেজ, একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২০০টির বেশি মাদরাসা রয়েছে। শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনসহ শিক্ষা খাতে বছরে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। তবে এটিকে আমরা ব্যয় নয়, আগামী প্রজন্মের জন্য বিনিয়োগ হিসেবে দেখি।
নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দীন ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আনু মিয়া বাবুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহার, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মজুমদার, প্রচার সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকী। বক্তব্য রাখেন কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, নবনির্বাচিত কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি জাফর আহমেদ, সহ সভাপতি মন্জু মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সবুর খান মাসুম, সহ সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক মীর হারুন, দপ্তর সম্পাদক কাজী আহসান হাবীব, অর্থ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক সোহেল উদ্দিন, শ্রম সম্পাদক রমিজুল হাসান, মহিলা সম্পাদক রোকসানা আক্তার, কার্যকরী সদস্য হাসান ওসমান লিটন, আরিফ হোসেন, মাহাবুবুর রহমান প্রমুখ। খবর প্রেস বিজ্ঞপ্তির।










