ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) জেনারেল হাসপাতালে ১৫ শয্যার আলাদা কর্নার চালু করা হয়েছে। চসিকের ভাষায় এটি ‘ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেল’। নারী, পুরুষ ও শিশু–সকল বয়সী রোগী ভর্তি হয়ে সেবা নিতে পারবেন এখানে। এছাড়া হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু শণাক্তকরণে বিনামূল্যে এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা সুবিধা চালু রয়েছে। গতকাল সোমবার সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ‘ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেল’–এর উদ্বোধন করেন। এসময় প্রয়োজন হলে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। জানা গেছে, বর্তমানে নগরে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডেঙ্গু কর্নার রয়েছে। চসিকের উদ্যোগেও আলাদা কর্নার হওয়ায় নগরে সরকারিভাবে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ আরও বাড়ল। ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেল’ উদ্বোধন করার সময় ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, চসিক জেনারেল হাসপাতালে গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৮২ জন ডেঙ্গু পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে ২০ জন ডেঙ্গু শনাক্ত হন। শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে জানুয়ারি থেকে আগস্ট ৮ মাসে শনাক্ত হন ১৩ জন। বাকি ৭ জন শনাক্ত হয়েছেন হয়েছেন চলতি সেপ্টেম্বর মাসে, এ মাসে পরীক্ষা করা হয় ২০ জনের। এতে বুঝা যায় সেপ্টেম্বর মাস খুউব রিস্কি। একইভাবে অক্টোবর মাসও রিস্কি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রতিরোধমূলক ও চিকিৎসামূলক–দুই ধরনের কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনা করছে।
এসময় চলতি সেপ্টেম্বর মাসে মহানগরে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি মৃত্যুও আমাদের জন্য কাম্য নয়।
তিনি বলেন, চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর, জেলার উপজেলা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৮৮৩ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। এ পর্যন্ত মহানগরে চারজন, উপজেলা পর্যায়ে সাতজন এবং অন্যান্য জেলায় একজনসহ মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ডা. শাহাদাত বলেন, অতীতের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ সাধারণত বেশি থাকে। তাই এ দুই মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চসিকের মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ক্রাশ প্রোগ্রাম ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রিভেন্টিভ এবং কিউরেটিভ–দুই ধরনের কাজ করছি। লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃত বিটিআই ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি এডাল্ট মশা নিয়ন্ত্রণেও নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মেয়র বলেন, ২০২২ সালে মহানগর ও জেলা মিলিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৫৪৫ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৮৭ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কমে প্রায় ৪ হাজার ৩২৩ এবং ২০২৫ সালে ৪ হাজার ৮৬৪ জনে দাঁড়ায়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৮৮৩ জন।
ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছি। রোগীদের চিকিৎসা ও সেবার মান আরও উন্নত করার জন্য চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোগীদের প্রতি আরও আন্তরিক ও যত্নশীল হওয়ার জন্যও চিকিৎসকদের অনুরোধ করেছি।
নগরবাসীর উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, কন্টেনার, নির্মাণসামগ্রীসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও ফুলের টব নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। একই সঙ্গে এসির পানি জমার স্থানও পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।
ডেঙ্গু আক্রান্তদের পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে মেয়র বলেন, জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইনসহ তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে রোগীর অবস্থা দ্রুত জটিল হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম, তপন কুমার চক্রবর্তী ও আন্দরকিল্লাস্থ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ একরাম হোসেন।
চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা আজাদীকে বলেন, ১৫ শয্যার যে কর্নার সেখানে নারী, পুরুষ ও শিশু যে কেউ ভর্তি হতে পারবেন।












