চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে আবাসিক হলের সিট দখলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদল। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সরকারি দল বিএনপির ছাত্রসংগঠনটির নেতা–কর্মীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিলটি কাটা পাহাড় রোড হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, ‘যারা প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে এই ক্যাম্পাসকে তাদের ‘মিনি ক্যান্টনমেন্ট’ বানানোর পাঁয়তারা করেছিল, যারা এই ক্যাম্পাসে খুনের রাজত্ব কায়েম করেছিল, যারা ৫ অগাস্ট পরবর্তী এই ক্যাম্পাসকে তাদের জমিদারি ঘোষণা করেছিল, তারা সুকৌশলে এই ক্যাম্পাসের প্রতিটি হল দখল করেছে।’ তার দাবি, ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাসীদেরকে’ রাতারাতি শিবিরের সাথী–কর্মী বানিয়ে প্রত্যেকটা হলে তোলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতপন্থি প্রভোস্টদের হাত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ছাত্রদল নেতা হৃদয় সব হলের ‘অবৈধ’ সিট বাতিলের দাবি জানান। খবর বিডিনিউজের।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ১১টি হলের ৮টি হলে যারা প্রোভোস্টের দায়িত্ব পেয়েছেন, তারা ‘জামায়াত–শিবিরের ক্যাডার’। সুকৌশলে ১৫০–২০০ জন সুপারিশের সিট পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
‘গুপ্ত’ মুক্ত করার দাবি জানিয়ে নোমান বলেন, ‘মেধার ভিত্তিতে সিট দিতে হবে। না হলে লাগাতার আন্দোলনে নামব। আমরা ছাত্রদল রাজনীতি করি বৈষম্যহীন ক্যাম্পাসের জন্য।’
তার আগে দুপুরে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সিট দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্রশিবির।
লিখিত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি এবং চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বজনপ্রীতি মুক্তকরণের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে হলের সিট বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।
সমপ্রতি অবৈধভাবে ছাত্রদলের সিট দখলের অপচেষ্টা এবং বিভিন্ন হলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের সুপারিশে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আসন বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য উঠে আসছে বলেও তিনি দাবি করেন।
আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শতভাগ আবাসনের একটি স্পষ্ট ‘রোডম্যাপ’ শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরবে বলে চাকসু নেতা আশা প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে শতভাগ আবাসন, আবাসন ভাতা, চাকসু ও সিনেট নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছে ছাত্রশিবির।











