দীর্ঘ তিন বছর ধরে চট্টগ্রামে স্থানীয় ক্রিকেট লিগের আয়োজন নেই। একটা চরম স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে। ক্রিকেটাররা–যাদের থাকার কথা মাঠে, তারা রুটি রুজির সন্ধানে ভিন্ন পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন। চট্টগ্রাম ক্রিকেটের এই স্থবিরতা কাটিয়ে এখানকার ক্রিকেটকে আবারও জাগিয়ে তুলতে এবং খেলোয়াড়দের প্রাক–মৌসুম প্রস্তুতির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম রিজিওনাল টি–২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬। আগামীকাল ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সাগরিকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই টুর্নামেন্টের পর্দা উঠবে। মূলত বাংলাদেশ ক্রিকেটে চট্টগ্রামের অন্যতম কৃতী প্রতিনিধি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর প্রচেষ্টাতেই এই টুর্নুামেন্টের যাত্রা শুরু হচ্ছে। গতকাল সোমবার দুপুরে টুর্নামেন্ট শুরু উপলক্ষে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স হলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তুলে ধরেন টুর্নামেন্টের আহ্বায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলাকে ৪টি জোনে ভাগ করে এই টুর্নামেন্টের দলগুলো গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলে স্থানীয় অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব–১৯ দলের ২ জন করে উদীয়মান ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। টুর্নামেন্টের যে দলগুলো খেলবে সেগুলো হচ্ছে ইস্পাহানী কর্ণফুলী,ফর্টিস ময়নামতি, ফিজআপ ভুলুয়া এবং টিম সাম্পান। ইস্পাহানী কর্ণফুলী দলটি চট্টগ্রাম জেলা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন অঞ্চল নিয়ে গঠিত দল, যার পৃষ্ঠপোষকতা করছে ইস্পাহানি গ্রুপ অব কোম্পানীজ। ফর্টিস ময়নামতি কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নিয়ে গঠিত দল, যার পৃষ্ঠপোষক ফর্টিস গ্রুপ। ফিজআপ ভুলুয়া নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত দল, যার পৃষ্ঠপোষকতা করছেন নোয়াখালী জেলার বিসিবি কাউন্সিলর তাউছ মো. বেনী আমিন চৌধুরী। এছাড়া টিম সাম্পান রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার অঞ্চল নিয়ে গঠিত দল। যার পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছেন বিসিবি পরিচালক সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ।
১৬, ১৭ ও ১৯ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বের খেলা অনুষ্ঠিত হবে এবং ২১ সেপ্টেম্বর সেরা দুটি দলকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচ। উদ্বোধনী দিনে সকাল ৯টায় প্রথম খেলায় অংশ নেবে ইস্পাহানী কর্ণফুলী এবং ফর্টিস ময়নামতি। দুপুর ১.৩০টায় দ্বিতীয় খেলায় অংশ নেবে ফিজআপ ভুলুয়া এবং টিম সাম্পান। টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি সমপ্রচার করবে এন স্পোর্টস। এছাড়া ক্রিকহিরোজ অ্যাপে পাওয়া যাবে বল–বাই–বল লাইভ স্কোর। টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খানকে প্রধান অতিথি হিসেবে আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানান বিসিবি পরিচালক নান্নু।
প্রতিযোগিতার স্পন্সর ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আছেন পিএইচপি গ্রুপ, ইস্পাহানি গ্রুপ, ফোর্টিস গ্রুপ, বিসিবি পরিচালক সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ, সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর, ইস্রাফিল খসরু, সাকিফ আহমেদ সালাম, বিসিবি কাউন্সিলর তাউছ বিন বেনী আমীন চৌধুরী, আবু সাদাত মো. সায়েম।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক জাতীয় অধিনায়ক বিসিবি পরিচালক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু আরো জানান, চট্টগ্রামের ক্রিকেট একটা কঠিন সময় অতিক্রম করছে। একসময়ের সোনালী দিন মুছে গেছে তার। বর্তমানে একটা লম্বা সময় ধরে এখানে স্থানীয় ক্রিকেট হচ্ছে না। এর ফলে খেলোয়াড়দের যেমন সমস্যা হচ্ছে তেমনি চট্টগ্রাম তথা দেশের ক্রিকেটের জন্যও আরো কঠিন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এজন্য এখানে অবশ্যই লিগ হতে হবে। তা হতে গেলে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন করে নির্বাচিত কমিটিকে দ্রুত কাজ শুরু করতে হবে। এখানে ক্রিকেটকে ফেরাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরও দায়িত্ব আছে। ইতিমধ্যে ক্রিকেট লিগ আয়োজনে সিজেকেএস সভাপতিকে চিঠি দেয়া হয়েছে। বোর্ড পরিচালকদেরও মাঠে ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করতে হবে। নান্নু বলেন, বিসিবিতে চট্টগ্রামের সংগঠক যাঁরা আছেন তাঁদের সবাইকে মিলে একটা উদ্যোগ নিতে হবে। চট্টগ্রামের ক্রিকেট উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করতে হবে। তিনি জানান, সারা দেশেই কিন্তু লোকাল ক্রিকেটের একই অবস্থা। এ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে ক্রিকেটের স্থবিরতা কাটানোর কাজ কিন্তু চট্টগ্রামই প্রথম শুরু করছে। আমরা ইতিমধ্যেই তিন বছরের একটা প্ল্যান নিয়েছি। যাতে করে চট্টগ্রামকে ‘ক্রিকেট হাব’ হিসেবে পরিণত করা যায়। আগামী ছয়মাসের মধ্যে ক্রিকেট বোর্ডের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলাফল দৃশ্যমান হবে বলে জানান তিনি। বিসিবি পরিচালক নান্নু বলেন, মাঠের ক্রিকেট যেন কখনোই থেমে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই পথচলা। তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন সবার সহযোগিতা ও ভালোবাসায় চট্টগ্রামের ক্রিকেট আবারও তার অতীত ঐতিহ্য ফিরে পাবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন পিএইচপি মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আখতার পারভেজ। তিনি চট্টগ্রামের ক্রিকেট উন্নয়নে সবসময় সাথে আছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিসিবি পরিচালক সাকিফ আহমেদ সালাম, পিএইচপি গ্রুপের পরিচালক নাভিদ ইকবাল, বিসিবি কাউন্সিলর তাউছ বিন বেনী আমীন চৌধুরী, ইস্পাহানি টি ট্রেড লিমিডেটের সহকারী ম্যানেজার মো. ফতেহ আমিন তারেক। সংবাদ সম্মেলন শেষে টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করা হয়।











