চট্টগ্রামের ২৭ হাজার ৫শর বেশি জেলে পরিবারকে দুই হাজার একশ টনেরও বেশি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রে মাছ শিকার বন্ধ থাকাকালে জেলে পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার এই বিপুল পরিমাণ চাল বরাদ্দ প্রদান করে। সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন ও মজুদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য গত ১৫ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ শিকার বন্ধ রয়েছে। সমুদ্রে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞাকালে জেলে পরিবারগুলো যাতে খাদ্য সংকটে না পড়ে সেজন্য পরিবারপ্রতি ৭৭.৩৩ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর ৮টি ওয়ার্ড এবং ৬টি উপজেলার বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবিকা সমুদ্রে মাছ শিকারের উপর নির্ভরশীল। এরা সাগর থেকে মাছ শিকার করে এনে বাজারে বিক্রি করে নিজেদের খাদ্যের সংস্থান করে। মৎস্য বিভাগ সমুদ্রে মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, মাছ বড় হওয়া, মাছের টেকসই মজুত তৈরি হওয়াসহ সাগরে মৎস্য সম্পদের বিকাশের লক্ষ্যে ৫৮ দিনের জন্য মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। সাগরে মাছের বড় মজুত তৈরি হলে তা কার্যত জেলেদেরই জীবনমানে পরিবর্তন আনবে। কিন্তু মাছ শিকার বন্ধ থাকলে অধিকাংশ জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। খাদ্যের সংস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ে।
জেলে পরিবারগুলোর এই দুর্দিনে সরকার জেলেদের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর সমুদ্রে মাছ শিকার বন্ধ থাকলে সরকার জেলে পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করে। সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচি থেকে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে জেলে পরিবারগুলোর খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।
চলতি মৌসুমে চট্টগ্রাম মহানগরীর ৮টি ওয়ার্ড এবং জেলার ৬টি উপজেলার ২৭ হাজার ৬৩১ পরিবারকে ২ হাজার ১৩৬ টন চাল প্রদান করা হচ্ছে। পরিবারপ্রতি মাসিক ৪০ কেজি হিসেবে ৫৮ দিনের জন্য ৭৭.৩৩ কেজি হারে চাল প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে ২৪০ পরিবার, ১১ নং দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডে ৬৫০ পরিবার, ৩০ নং ওয়ার্ডের মাইজপাড়ায় ১৪০ পরিবার, ৩৩ নং ওয়ার্ডের ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় ২৫০ পরিবার, ৩৪ নং ওয়ার্ডের পাথরঘাটা জেলেপাড়ার ২৮৩ পরিবার, ৩৭ নং ওয়ার্ডের আনন্দবাজার এলাকায় ৩১০ পরিবার, ৩৯ নং ওয়ার্ডের আকমল আলী ঘাট এলাকার ৩১৫ পরিবার, ৪০ নং ওয়ার্ডের পতেঙ্গা জেলেপাড়ার ৩১৫ পরিবার মিলে মোট ২ হাজার ৫শ ৩ পরিবার এই খাদ্য সহায়তার আওতায় রয়েছে।
অপরদিকে উপজেলা পর্যায়ে বাঁশখালীর ৮ হাজার ৭২৮ পরিবার, আনোয়ারার ৩ হাজার ৫৮৯ পরিবার, মীরসরাইয়ের ২ হাজার ১২৬ পরিবার, সন্দ্বীপের ৫ হাজার ৪৮০ পরিবার, কর্ণফুলী এলাকার ৪০০ পরিবার এবং সীতাকুণ্ডের ৪ হাজার ৮০৫ পরিবার মিলে মোট ২৫ হাজার ১২৮ পরিবার খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলে পরিবারগুলোকে স্ব স্ব এলাকায় চাল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলা এবং মহানগরীর এলাকাগুলোতে চাল বিতরণ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। যাতে তারা বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকা অবস্থায় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন। সরকার জেলেদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এটি একটি মানবিক উদ্যোগ।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (পিআরএল) মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, জেলে পরিবারগুলোতে চাল বিতরণে স্বচ্ছতা এবং সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বয় করা হয়েছে। সরকারের এই মানবিক কার্যক্রম যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।














