প্রতি বছরের মতো এবারও গত ২০১৯-২০২০ করবর্ষে দেশের সেরা ১৪১ করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্স কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এরমধ্যে সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেকসহ ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা গতকাল দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার পিএইচপি ভবনে ট্যাক্সেস ক্লাবে আয়োজিত ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান থেকে ট্যাক্স কার্ড গ্রহণ করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, জেলা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলার মোট ৪১ জন সর্বোচ্চ করদাতা কর সম্মাননা গ্রহণ করেন।
ট্যাক্স কার্ড পাওয়া সেরাদাতাদের মধ্যে রয়েছেন-সিনিয়র সিটিজেন ক্যাটাগরিতে আলী হোসেন আকবর আলী, প্রতিবন্ধী ক্যাটাগরিতে সুকর্ণ ঘোষ, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কামাল, জ্বালানি ক্যাটাগরিতে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি, তৈরি পোশাক খাতে সিইপিজেডের ইয়াং ওয়ান লিমিটেড, ইউনিভার্সেল জিন্স লিমিটেড, ফার্ম ক্যাটাগরিতে মেসার্স এসএন কর্পোরেশন ও মেসার্স সাহারা এন্টারপ্রাইজ। ট্যাক্স কার্ড পাওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের পরিচালক আলী হোসেন আকবর আলী এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার দীর্ঘ সময় কর প্রদানকারী ড. শাফায়েত হোসেন খান।
এম এ মালেক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদেরকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত যে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, সেই স্বপ্নের সারথি আমরা যারা আজকে ট্যাক্স দিয়ে এখানে বসে আছি তারা। ট্যাক্স আহরণ ছাড়া উন্নয়নের গতিধারা ধরে রাখা সম্ভব হবে না। আমি চিন্তা করি-এনবিআর যদি ক্যাটাগরি হিসাব না করতো, তাহলে আমার মতো ক্ষুদ্র করদাতা এখানে এসে স্থান পেতাম না। সেজন্য আমি এনবিআরকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, অনেকে মনে করেন- ট্যাক্সের আওতায় যদি একবার চলে আসেন, তাহলে প্রতি বছর বাড়িয়ে বাড়িয়ে ট্যাক্স দিতে হবে। এ বিষয় থেকে লোকজনকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া ট্যাক্স যারা দিচ্ছে না, তাদের যদি ট্যাক্সের আওতায় আনা হয় তাহলে যারা বর্তমানে ট্যাক্স দিচ্ছেন তাদের চাপ থাকবে না। তাই করের আওতাটা একটু বাড়ানোর দিকে কর কর্মকর্তাদের নজর দিতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম আপিল অঞ্চলের কর কমিশনার হেলাল উদ্দিন সিকদার বলেন, কর দিলে দেশ সমৃদ্ধ হবে। কর হচ্ছে উন্নয়নের অক্সিজেন স্বরূপ। বেশি বেশি কর দিলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৩ এর কমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ বলেন, বটমলেস টাইগারকে ইমার্জিং টাইগারে পরিণত করার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অবদান অপরিসীম। আমাদের দোষ ত্রুটি থাকতে পারে। বর্তমানে দেশের সবগুলো সূচক উপরের দিকে। এসব কিছুর অবদান কিন্তু এনবিআরের। এনবিআরের দক্ষ কর্মীরা ট্যাক্স সংগ্রহ করছেন। এনবিআরের গায়ে যে হাওয়া লেগেছে, আমরা আশা করি সেটি এক সময় দমকা হাওয়ায় পরিণত হবে।
সম্মাননা অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কর অঞ্চল-১ কমিশনার মো. রিয়াজুল ইসলাম, কর অঞ্চল-২ এর কমিশনার জিএম আবুল কালাম কায়কোবাদ, কর অঞ্চল-৪ এর কমিশনার ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, কাস্টমস ও ভ্যাট আপিল কমিশনার ড. গোলাম মো. মুনির এবং কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি এনায়েত হোসেন প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কমিশনার সফিনা জাহান, মাহবুবুর রহমান, সামিনা ইসলাম, হেমেল দেওয়ান প্রমুখ।
অন্যদিকে সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা নেয়া ৪১ ব্যক্তি হলেন-চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কর অঞ্চল থেকে ২০১৯-২০ করবর্ষের দীর্ঘমেয়াদী করপ্রদানকারী ক্যাটগরিতে মির্জা সালমান ইস্পাহানি এবং ড. শাফায়াত হোসেন খান। এছাড়া সর্বোচ্চ করপ্রদানকারী তিনজন আবু মোহাম্মদ, আলী হোসেন আকবর আলী এবং সদরউদ্দিন খাঁন। তরুণ পুরুষ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী সৈয়দ মো. ফজলুল করিম, সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী মহিলা করদাতা মোছাম্মৎ ফারহানা মোনেম।
চসিক এলাকার বাইরে থেকে দীর্ঘমেয়াদী করদাতার সম্মানন নেন নবী হোসেন চৌধুরী এবং আলী হোসাইন। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার মো. মহসিন, আবুল হাশেম এবং মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী। তরুণ পুুরুষ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা নেন রবিউল ইসলাম খোকন, সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী মহিলা করদাতা সম্মাননা নেন জান্নাতুল মাওয়া।
কক্সবাজারে দীর্ঘমেয়াদী কর প্রদানকারী হিসেবে সম্মাননা গ্রহণ করেন কাজল পাল এবং হায়দার আলী। এছাড়া সর্বোচ্চ তিন করদাতার সম্মাননা নেন মোহাম্মদ আবু কাউসার, মো. আলমগীর এবং মোহাম্মদ সেলিম। তরুণ পুরুষ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পেয়েছেন জিয়া উদ্দিন হায়দার এবং সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী মহিলা করদাতার সম্মনানা নেন সার্জিনা আক্তার।
অন্যদিকে রাঙামাটি জেলার দীর্ঘমেয়াদী কর প্রদানকারীর সম্মাননা নেন মো. বদিউল আলম এবং হাজী মো. বাদশা মিয়া। সম্মাননা নেয়া সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী তিনজন হলেন লোকমান হোসেন তালুকদার, মো. রফিকুল আলম লিটন এবং খলিলুর রহমান। তরুণ পুরুষ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা পেয়েছেন মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সর্বোচ্চ করপ্রদানকারী মহিলা করদাতা হিসেবে সম্মাননা নেন চিত্রা চাকমা।
খাগড়াছড়িতে দীর্ঘমেয়াদী করদাতার সম্মাননা নেন বিজয় কান্তি বড়ুয়া এবং সজল দে। সম্মাননা নেয়া সর্বোচ্চ করপ্রদানকারী তিনজন হলেন- মোসাম্মৎ ফরিদা আক্তার, কাজী মো. নুর আলম এবং স্বপন চন্দ্র দেবনাথ। অন্যদিকে তরুণ পুরুষ ক্যাটগরিতে সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা পেয়েছেন নুর মোহাম্মদ এবং সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী মহিলা করদাতা হিসেবে সম্মাননা নেন ঝুলনা সাহা।
বান্দরবান জেলায় দীর্ঘমেয়াদী করদাতার সম্মাননা পেয়েছেন মো. সামশু উদ্দিন সওদাগর। সম্মাননা নেন সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী মো. নুরুল আবছার, সামশু উদ্দিন সওদাগর এবং মো. আলী। অন্যদিকে তরুণ পুরুষ ক্যাটগরিতে সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা পেয়েছেন ফরহাদ হোসেন এবং সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী মহিলা করদাতার সম্মাননা নেন মে হ্লা প্রু।










