চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় আদালতে জাহাঙ্গীরের আত্মসমর্পণ

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ৫ জুলাই, ২০২৬ at ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স ট্রাস্টের রেজুলেশন জাল ও ব্যাংকের সিগনেটরি পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খান আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। গত বুধবার চট্টগ্রাম ৫ম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে, বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আসামির বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বয়স বিবেচনায় জামিনের প্রার্থনা করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আসামিকে ৯০ বছরের প্রবীণ ও অসুস্থ দাবি করেন, তারা বলেছেন আসামির বয়স ৯০ বছর, প্রকৃতপক্ষে জাতীয় পরিচয়পত্রে দেখা যাচ্ছে আসামির বয়স ৮২ বছর।

জামিন আদেশের পর বাদীপক্ষের প্রধান কৌঁসুলী অ্যাডভোকেট এ এম জিয়া হাবীব আহসান মামলার সুনির্দিষ্ট বিবরণ তুলে ধরে সাংবাদিকদের জানান, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের চেয়ারম্যান এম এ মালেক খুলশী থানায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৪২০/৪০৬/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪১৯/৫০৬ ধারায় মামলাটি (মামলা নং()২৬) দায়ের করেন। মামলার অভিযোগ ও বাদীপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, আসামি জাহাঙ্গীর আলম খান ও তার অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে ট্রাস্টের আইন ও বিধিবিধান সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে বিগত ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই সিআইআইটিসি ট্রাস্ট বোর্ডের তথাকথিত ৯২তম সভা আহ্বান করেন। উক্ত সভায় এর আগে ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৯০তম সভার সিদ্ধান্তের বিপরীতে একটি ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রেজুলেশন প্রস্তুত করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামি চেয়ারম্যানের অগোচরে প্রতারণার আশ্রয়ে মিথ্যা পরিচয়ে বিভিন্ন সময়ে সিআইআইটিসি ট্রাস্ট বোর্ডের তথাকথিত ৯১তম, ৯২তম এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর ৯৩তম সভা আহ্বান করেন। এই সভাগুলো আহ্বানের পূর্বে ট্রাস্ট বোর্ডের বৈধ চেয়ারম্যান এম এ মালেকের সাথে কোনোরূপ পরামর্শ করা হয়নি এবং সম্মানিত ট্রাস্টিদের আইনানুযায়ী কোনো নোটিশ বা চিঠি দেওয়া হয়নি, যা ট্রাস্ট ডিডের মিটিং শিরোনামের স্পষ্ট বিধির চরম লঙ্ঘন। বাদীপক্ষের কৌঁসুলী অ্যাডভোকেট এ. এম. জিয়া হাবীব আহসান আরও জানান, আসামি নিজেকে অবৈধভাবে ট্রাস্ট বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত দেখিয়ে এবং হাসপাতালের বৈধ চেয়ারম্যানকে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত রেখে অজ্ঞাতনামা আরও ৭৮ জন আসামির যোগসাজশে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকে জাল নথিপত্র দাখিল করে অ্যাকাউন্টের সিগনেটরি বা স্বাক্ষরকারী পরিবর্তন করেন। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার তহবিল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অবৈধ উপায়ে স্থানান্তর, তছরুপ ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের আশ্রয় নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, যার সুনির্দিষ্ট ও দালিলিক প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠানের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে। শুনানিতে বাদীপক্ষ আরও উল্লেখ করে যে, আসামি জাহাঙ্গীর আলম খানের বিরুদ্ধে এর আগেও খুলশী থানার অন্য একটি মামলায় (মামলা নং২৪()২৪) চিকিৎসাখাতের ৮৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক দাখিলকৃত চার্জশিটে ৩ নম্বর আসামি হিসেবে যুক্ত থাকার রেকর্ড রয়েছে; যে মামলায় উচ্চ আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পূর্বে পাসপোর্ট জব্দের আদেশ দিয়েছিলেন। নিম্ন আদালতের এই জামিন আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাদীপক্ষের প্রধান কৌঁসুলী জিয়া হাবিব আহসান আইনগত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এই মামলায় আরও ৭৮ জন অজ্ঞাতনামা আসামি জড়িত রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সুচারু তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে মামলার মূল আসামি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহালদায় পোনা আহরণকারীদের শিগগিরই স্পিডবোট দেয়া হবে
পরবর্তী নিবন্ধআন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবায় ব্র্যাক ব্যাংক প্রিমিয়াম ব্যাংকিং গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধা