খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণের পর বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এখনো যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। দীঘিনালা–সাজেক সড়কের কবাখালী এলাকার পানি সরে যাওয়ায় বাঘাইহাট–মাচালং–সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে । সাজেক থেকে ফিরেছে আটকা পড়া ৪ শতাধিক পর্যটক। তবে দীঘিনালা–লংগদু ও খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি সড়কে টানা তৃতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মহালছড়ি উপজেলায় একটি সেতু তলিয়ে যাওয়ায় মুবাছড়ি এলাকার সঙ্গে উপজেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে দীঘিনালা–লংগদু সড়কের স্টিল ব্রিজ, ছোট মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুলতলা এলাকায় সড়কের ওপর পানি উঠে যায়। এরপর থেকেই ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে খাগড়াছড়িুরাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও লিমুছড়ি এলাকায় সড়কে পানি উঠায় ওই সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অনেক যাত্রীকে কোমর সমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। অনেককে ভ্যান, ট্রাক, নৌকা ও ভেলায় করে প্লাবিত অংশ পার হতে দেখা যায় ।
এদিকে চেঙ্গী নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। চেঙ্গী নদীর পানি কমে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি শহরের বটতলী, মহিলা কলেজ এলাকা, টিটিসি ও রাজ্যমনিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে নিচের বাজার ও গঞ্জপাড়া এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। দীঘিনালা উপজেলার মাইনী নদীর পানিও কমছে। তবে নিম্নাঞ্চল হওয়ায় মেরুং ইউনিয়নের ২০ গ্রাম প্লাবিত রয়েছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, উপজেলায় ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে সাত হাজারের বেশি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাত থেকে পানি কমতে শুরু করায় কবাখালী সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। বন্যার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। মহালছড়ি–গুইমারা সড়কের সিন্দুকছড়ি এবং খাগড়াছড়ি শহরের শালবন, কুমিল্লাটিলা ও হরিনাথপাড়া গ্যাপ এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওযায় অনুরোধ করলেও অধিকাংশ লোকজন বাড়ি ছেড়ে যায় নাই।
জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া লোকজন এবং পানিবন্দি পারিবার গুলোকে খিচুরি, পানি, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে।












