কূটনীতিতে বাধা মার্কিন চাপ : মাসুদ পেজেশকিয়ান

ইরান চাইলে আলোচনার জন্য ফোন করতে পারে : ট্রাম্প ওমান থেকে আবার পাকিস্তানে গেলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

| সোমবার , ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ at ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, মার্কিন বৈরি পদক্ষেপ ও চাপ আস্থা তৈরি ও সংলাপের দিকে যাওয়ার পথ কঠিন করে তুলছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে হওয়া পঞ্চম ফোনালাপে পেজেশকিয়ান যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম।

সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সব পক্ষের মধ্যে অভিন্ন বোঝাপড়া দরকার মন্তব্য করে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, যে কোনো অগ্রগতির ক্ষেত্রেই আস্থা এবং যথাযথ ভিত্তি প্রস্তুত করা অপরিহার্য। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামপ্রতিক সব পদক্ষেপ, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের শক্তিশালী নৌ অবরোধকে আস্থা বৃদ্ধি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে নৌ অবরোধের মতো কর্মকাণ্ড আস্থা নির্মাণের পরিবেশ ধ্বংস করে দিচ্ছে। পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরান কোনো যুদ্ধ শুরু কিংবা কখনোই অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ানোর চেষ্টা করেনি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বৈরিতা, যার মধ্যে নৌ অবরোধও আছে, ওয়াশিংটন যে রাজনৈতিক সমাধান চায় বলে দাবি করছে তার বিরুদ্ধে যায়। এগুলো ইরানিদের মধ্যে তাদের প্রতি কেবল অবিশ্বাসই বাড়িয়েছে। অপর পক্ষ হুমকি, চাপ ও বলপ্রয়োগের বদলে পারস্পরিক সম্মানের ব্যাপারে মনোযোগী হলেই আলোচনা কাজ করবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইরান কেবল আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তার বৈধ অধিকারই নিশ্চিত করতে চাইছে। ইরান যে কোনো ন্যায্য ও সম্মানজনক পথে যেতে প্রস্তুত, বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি পাকিস্তান ও অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোকে চাপ বা অন্যায্য দাবি ছেড়ে দায়িত্বশীল সংলাপের পথে যেতে যুক্তরাষ্ট্রকে উৎসাহিত করারও আহ্বান জানান। খবর বিডিনিউজের।

ফোনালাপে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ ইরানের নেতা ও জনগণকে অভিবাদন জানিয়েছেন। তিনি ইসলামাবাদে এসে বিস্তারিত আলোচনা করায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির প্রশংসাও করেন। ইরান যে পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে তা ‘সম্মানের’ উল্লেখ করে শেহবাজ বলেন, একটি ভালো সমাধানে পৌঁছাতে পাকিস্তান তার সক্ষমতার সবটুকুকেই কাজে লাগাবে। তিনি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলি হামলার নিন্দাও জানান। চাপে বা যুদ্ধে ইরানিদের নত করা যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইরানে শাসন ব্যবস্থা বদলের চিন্তা একেবারেই অবাস্তব। পাকিস্তান এমন এক রাজনৈতিক সমাধান চায় যা ইরানের মর্যাদাকে যেমন সমুন্নত রাখবে, তেমনি অঞ্চলে স্থিতিশীলতাও আনবে, বলেছেন শেহবাজ।

ইরান চাইলে ফোন করতে পারে: এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি যুদ্ধ বন্ধ করতে আলোচনা করতে চায়, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। ফক্স নিউজের ‘দ্য সানডে ব্রিফিং’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তারা (ইরান) যদি কথা বলতে চায়, তাহলে তারা আমাদের কাছে আসতে পারে, অথবা আমাদেরকে ফোন করতে পারে। আপনারা জানেন, সেখানে টেলিফোন আছে। আমাদের চমৎকার ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র এতে জয়ী হবে। তিনি বলেন, ইরান নিয়ে আমরা এখন যাদের সঙ্গে কাজ করছি তাদের কিছু মানুষ খুবই বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন, আবার কিছু মানুষ তা নয়। আমি আশা করি ইরান বুদ্ধিমান হবে।

ওমান থেকে পাকিস্তানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী : অপরদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরকচি ওমান সফর শেষে আবারও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গতকাল রোববার তিনি ইসলামাবাদ পৌঁছান। এর আগে গত শনিবার তিনি ইসলামাবাদ থেকে ওমান সফরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তিনি ফের পাকিস্তানে ফিরলেন। আরাকচি শনিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে অবসানে একটি কার্যকর কর্মকাঠামো প্রশ্নে তার দেশের অবস্থান জানিয়েছিলেন বলে এক্সে এক পোস্টে জানান।

আরকচি ইসলামাবাদ ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি তার প্রতিনিধিদলের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন। ওদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি একটি পোস্টে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলেই কূটনীতির বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নিচ্ছে কিনা সেটি তার এখনও দেখার আছে।

ট্রাম্পস্টারমার ফোনালাপ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফোনালাপ করেছেন। গতকাল দুই নেতার এই ফোনালাপে হরমুজ প্রণালি সচল করার ‘জরুরি প্রয়োজনীয়তা’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র একথা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দুই নেতা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করার জরুরি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব এবং যুক্তরাজ্য এবং বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবনযাত্রার ওপর গুরুতর প্রভাবের প্রেক্ষাপটে তারা এই আলোচনা করেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে তার যৌথ উদ্যোগের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করেছেন, যাতে হরমুজ প্রণালিতে অবাধে নৌ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধওরা কখনো নৌ পুলিশ, কখনো নেতা, কখনো সাংবাদিক
পরবর্তী নিবন্ধএমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলে বিল পাস