কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খিলছাদক এলাকায় পানি চলাচলের জন্য সরকারিভাবে নির্মাণ করা হয় একটি কালভার্ট। কিন্তু সেই কালভার্টের একেবারে পাশ ঘেঁষে স্থানীয় এক ব্যক্তি নির্মাণ করছেন বাউন্ডারি দেয়াল। এতে পানি চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেওয়ায় এবারের বর্ষায় পুরো খিলছাদক এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তথা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ– শিব্বির আহমদ নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি কালভার্টের পাশ ঘেঁষে পরিবেশবিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি– বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সরকার এখানে একটি কালভার্ট নির্মাণ করেছিল। এই কালভার্টের মাধ্যমে এলাকার পানি সহজে ভাটির দিকে নেমে যেতে পারত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শিব্বির আহমদ তার জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে কালভার্টের দুই পাশ ঘেঁষে সীমানা দেওয়াল নির্মাণ করেছেন। এতে পানি চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে বর্ষা মৌসুমে নতুন করে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় পুরো এলাকা ডুবে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হবেন তারা। আনোয়ার ছাদেকী, আরশাদ খান, জাহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেনসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি– পানি চলাচলের জন্য কালভার্টের দুই পাশে প্রয়োজনীয় জায়গা রাখা হয়নি। তাই জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিব্বির আহমদ বলেন, এটি তার ক্রয়কৃত ব্যক্তিগত জমি এবং পানি চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে তার বড় ভাই নজির আহমদের দাবি, বর্ষাকালে এই এলাকার পানি চলাচলের পথ অনেক আগেই সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কারণে। এটি কোনো নির্ধারিত পানি চলাচলের পথ নয়। বরং তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি।
এই বিষয়ে কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বপ্রাপ্ত চকরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব বলেন, বিষয়টি জানার পর তহসিলদার পাঠিয়ে দেয়াল নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে এলাকাবাসীর স্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












