বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে গতকাল কালবৈশাখী ঝড়ে বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম রিফুজি মোস্তাক (৬৫)। একি সময়ে ঝড়ের তীব্র বাতাসে চলন্ত সিএনজির ওপর গাছের ডাল পড়ে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। কালবৈশাখীতে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বহু স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিপর্যয়। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে লবণ মাঠের। উৎপাদনের ভরা মৌসুমে বিপুল পরিমাণ লবণ পানিতে মিশে গেছে। ঝড়ে খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন বৈদুৎতিক খুঁটি ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে বিদুৎ অফিস। বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো জেলায় পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। গাছ পড়ে খাগড়াছড়ি–চট্টগ্রাম মহাসড়ক, মাটিরাঙা, পানছড়িসহ বিভিন্ন সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এদিকে একদিনের বৃষ্টিতেই চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, জেলার সাতটি উপজেলায় কালবৈশাখীতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বজ্রপাতের বিকট শব্দে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলায় গাছপালা ভেঙে পড়েছে।
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি জানান, তীব্র বাতাসে কাপ্তাই সড়কের সত্যপীর মাজার এলাকায় বিশালাকৃতির একটি গাছ সড়কে উপড়ে পড়ে। সাথে ভেঙে পড়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে যায়। আটকা পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থী, স্কুল–কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ। পরে গাছটি অপসারণে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। যোগ দেন রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও। দীর্ঘ আড়াই ঘন্টা পর গাছটি অপসারণ করে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হঠাৎ প্রবল ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টিতে কাপ্তাই সড়কের চন্দ্রঘোনা আধুরপাড়া, পারুয়া ডিসি সড়কের কড়ার টেক, মরিয়মনগর ডিসি সড়ক, সরফভাটা, শিলকসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া বিভিন্ন বসতঘরের উপর গাছ ভেঙে পড়ে, ভেঙে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, ঢলে পড়েছে পাকা বোরো ধানের আবাদ। এতে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের সময় বাতাসের তীব্রতায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে এবং তার ছিঁড়ে যায়। ফলে মুহূর্তেই পুরো উপজেলা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। কিছু এলাকায় বৈদ্যুতিক তারের ওপর গাছ পড়ে থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া জোনাল অফিসের (পল্লী বিদ্যুৎ) এজিএম মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘ঝড়ে উপজেলার অন্তত ২০টি পয়েন্টে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে এবং বেশ কিছু খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে আপাতত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। আমাদের কারিগরি টিম মাঠে কাজ করছে, কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগবে।’
পেকুয়া প্রতিনিধি জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন উপজেলার মগনামা, রাজাখালী, উজানটিয়া ও পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বিলহাচুরা, ছিরাদিয়া, জালিখালী এলাকার লবণ চাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ঘর, দোকান পাট, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুটি ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুপুর থেকে সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। ঝড়ে পেকুয়া উপজেলার আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরী বাজার, চৌমুহনী স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে দোকানপাটের চালা উড়ে যায়। পেকুয়া বাজারস্থ পশু বাজারের অস্থায়ী সেট ভেঙে ব্যবসায়ীদেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী জানান, ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চন্দনাইশ প্রতিনিধি জানান, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টিতে কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে দোহাজারী পৌরসভার স্টেশন রোডের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে সাধারণ মানুষকে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া পৌরসভা সদরের ৩নং ওয়ার্ডের সরকার পাড়া, খানবাড়ী, ঈদ পুকুরিয়া, জামিরজুরী, চাগাচর, দেওয়ানহাট, হাছনদন্ডিসহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়কে পানি জমে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে একদিনের বৃষ্টিতেই পাহাড়ি ঢলে দোহাজারী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড জঙ্গল জামিজুরী আদর্শ গ্রাম সংযোগ সড়কের সাতছড়ি খালের কুদুমছড়ি নামক স্থানে ভাঙা কালভার্ট অংশে সড়ক ধসে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড় ধসের শঙ্কা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে জেলা প্রশাসন ও তথ্য অফিসের কার্যক্রম দেখা গেছে। বৃষ্টিপাতের কারণে পাকা ধানের ক্ষতি হয়েছে।














