নগরীর পাহাড়তলীর কাজী মসজিদ এলাকার সুফিয়া গার্মেন্টসের কর্মী রিতা আক্তার রিয়া কাজ শেষ করে প্রতিদিন বাসায় ফিরতেন। কিন্তু গত শনিবার তিনি বাসায় না গিয়ে খুলশী থানাধীন ফয়’স লেক এলাকার ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রাম (ইউএসটিসি) হাসপাতালের ছাদে কেন উঠলেন? বিষয়টি বুঝে আসছে না তার পরিবারের সদস্যদের।
ইউএসটিসি হাসপাতালের দুই ভবনের মাঝখানের খালি জায়গা থেকে গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ রিতা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে। এর আগে হাসপাতাল চত্বরে রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকার বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে খুলশী থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। হাত–পা ভাঙা এবং মগজ বেরিয়ে যাওয়া লাশটি উদ্ধার করলেও রিতা আত্মহত্যা করেছে নাকি কেউ তাকে হাসপাতাল ভবনের উপর থেকে ফেলে দিয়েছে সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে রিতা যে হাসপাতাল ভবনের উপর থেকেই নিচে পড়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত।
রিতা আক্তার হবিগঞ্জ জেলার বানিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা। নগরীর পাহাড়তলীর নোয়াপাড়া এলাকায় মা, বোন, বোনের জামাই ও ভাইকে নিয়ে থাকতেন তিনি। ১৯ বছর বয়সী রিতার বাবা নেই।
খুলশী থানার উপ–পরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া আজাদীকে বলেন, রিতা আক্তার রিয়া ইউএসটিসির কেউ নন। ছাত্রীও নন, স্টাফও নন। ইউএসটিসি হাসপাতালের কোনো রোগী কিংবা রোগীর স্বজনও তিনি ছিলেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। ঘটনা পরবর্তী ইউএসটিসি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে রিতার লাশ উদ্ধার ঘটনা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, রিতার পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রিতা নগরীর পাহাড়তলীর কাজী মসজিদ এলাকার সুফিয়া গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। গার্মেন্টস ছুটি হলেই বাসায় ফিরে যেতেন। কিন্তু গত শনিবার গার্মেন্টস ছুটির পরও বাসায় না ফিরে তিনি কেন ইউএসটিসি হাসপাতাল কিংবা হাসপাতালের ছাদে উঠলেন, এ বিষয়টি তারা বুঝতে পারছেন না। তিনি বলেন, রিতা কেন হাসপাতাল ভবনের ছাদে উঠলেন, নিজে ছাদ থেকে নিচে লাফ দিয়েছেন নাকি অন্য কেউ তাকে সেখান থেকে নিচে ফেলে দিয়েছে, সেসব নির্ণয়ের চেষ্টা চলছে। আমরা প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছি। এ ঘটনার পেছনে অন্য কিছু রয়েছে কিনা সেসবও খুঁজে দেখছি। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে রিতার লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।










