বিচারের জন্য প্রস্তুত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা

সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র মামলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি, সাক্ষী ১৫ জন

| সোমবার , ২৫ মে, ২০২৬ at ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় তা বিচারিক আদালতে বদলি করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকালে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র দেখে তা বদলির আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম আশরাফুল হক।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বদলি করা হয়েছে। এদিনই দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ঢাকার আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে অভিযোগপত্র জমা দেন। তিনি বলেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে হত্যায় সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। মামলায় ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা। খবর বিডিনিউজের।

গত মঙ্গলবার দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ বলেছে, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন।

এজাহারে বলা হয়, পল্লবীর সেকশন১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পায় তার মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সোহেল ও স্বপ্নার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেছেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধবিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা এ মামলায় আসামিদের আইনি সেবা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী হিসেবে আজিজুর রহমান দুলুকে শনিবার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকাজ শেষে বাসায় না ফিরে হাসপাতালের ছাদে কেন
পরবর্তী নিবন্ধহামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেল আরো ১৬ শিশু