২১ এপ্রিল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষা। এই ছোট জীবনে বহু সমস্যা পেরিয়ে এবারের পরীক্ষার্থীরা জীবনে প্রথমবার পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। ২০২০ সালে তারা পঞ্চম শ্রেণিতে ওঠার পরপরই করোনাকালীন স্কুল বন্ধ হয়ে যায় এবং সে বছর তাদের পিইসিই বাতিল হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে তারা অষ্টম শ্রেণিতে উঠেছে। তাদের জেএসসি পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়নি। তারা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা কোনোটাতেই অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়নি। ২০২৪ এ নবম শ্রেণিতে ওঠার পর নতুন কারিকুলাম এ তারা পড়াশোনা শুরু করে। ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় স্কুল বন্ধ হওয়া, সারাদেশে একযোগে অভিন্ন প্রশ্নে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা শুরু করে তা শেষ করতে না পারা, সব কিছু মিলিয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টা তাদের যারপরনাই খারাপ ভাবে পার হয়েছে। এরপর ২০২৫ এ দশম শ্রেণিতে উঠে আবার তাদেরকে পুরনো কারিকুলাম অনুযায়ী নতুন করে পড়ালেখা শুরু করতে হয়। মাত্র একবছর পড়ালেখা করে তারা এখন জীবনের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুতি নিয়েছে। ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ভয়াবহতায় বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সংকট যেমন প্রখর হয়ে উঠেছে তেমনি লোডশেডিং এর মাত্রাও অনেক বেশি বেড়ে গেছে। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মাত্র ১০ লিটার তেল সংগ্রহ করা যায়, যা জনগণের প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম। আর ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং এ জনজীবনে মারাত্মক দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
গত ১৭ই এপ্রিল নগরীর পতেঙ্গায় দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শন শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে এপ্রিল ও মে মাসে জ্বালানির কোনো ঘাটতি হবেনা। দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সর্বোচ্চ পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সরবরাহ চেইন সক্রিয় রয়েছে। ফলে এই দুই মাসে জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। লোডশেডিং প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ চাহিদা অনুযায়ী দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিলো মাত্র ৪৮১ মেগাওয়াট। যা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্টন করা হয়েছে। চট্টগ্রামে এ সময় লোডশেডিং ছিলো মাত্র ৩৫ মেগাওয়াট। এমন সংবাদ শুনে আমরা সত্যিই আনন্দিত। আমাদের এখন একটাই চাওয়া, আমাদের সন্তানদের পরীক্ষা চলাকালীন শুধু তিন ঘন্টার জন্য হলেও যেনো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে বিদ্যুৎ বিভাগ সক্রিয় থাকে। পরীক্ষা চলাকালীন অন্তত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে যাতে লোডশেডিং না হয় সে ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগকে তৎপর হতে হবে। আমাদের সন্তানরা যেনো ফ্যানের বাতাসের নিচে বসে স্বস্তির মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে পারে। এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের জন্যে শুভকামনা জানাই।













