আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংসদ সদস্য আসার খবরে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন বেশ কয়েকজন রোগী। পরিদর্শন শেষে সাংসদ চলে যাওয়ার পর এসব রোগীও চলে যান হাসপাতাল ছেড়ে। গত সোমবার চিকিৎসাকেন্দ্রটি পরিদর্শনে যান চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজাম। তিনি পৌঁছানোর আগে এসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এসব রোগী গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিন আহত হয়েছিলেন। তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংসদ সদস্যের হাসপাতাল পরিদর্শনের খবর চাউর হওয়ার পর এসব রোগী জরুরি বিভাগে যান। সংসদ সদস্য পরিদর্শনে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তিনি চলে যাওয়ার পর রোগীরাও চলে যান। খবর বিডিনিউজের।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, যেসব রোগী এসেছিলেন, নির্বাচনের দিন কোনোভাবে কোথাও আহত হয়েছিলেন। তারা বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। পরে ফলোআপের জন্য তারা জরুরি বিভাগে এসেছিলেন। তারা বিভিন্ন সমস্যার কথা বলার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছিলেন।
চিকিৎসা নিতে আসা ১৫ থেকে ১৬ জনের মধ্যে কয়েকজনের হাতে প্লাস্টার করা ছিল দাবি করে মাহাতাব উদ্দীন বলেন, সংসদ সদস্য চলে যাওয়ার পর হয়ত কয়েকজন চলে গিয়েছিলেন।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এসব রোগী আগে থেকে চিকিৎসাধীন রোগীদের সরিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়েন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহতাব বলেন, আমাদের ৫০ শয্যার হাসপাতাল। সবসময় ৭০টা শয্যা তৈরি থাকে রোগীদের জন্য। গতকাল অনেক বেড খালি ছিল, এমন ঘটনা ঘটেনি। বরং এমপি সাহেব আমার কাছ থেকে বেড খালি কেন সেটা জানতে চেয়েছিলেন।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজাম বলেন, যারা নির্যাতিত হয়েছে, আমি তাদের দেখতে গিয়েছিলাম, একটা ভালো কাজে গিয়েছি। অনেক গরীব মানুষ আমাকে জয়যুক্ত করার জন্য, দলের জন্য নির্বাচন করতে গিয়ে অপর পক্ষের মার খেয়ে ঘরে বসে আছে, তাদের ভালো চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কী করা যায়, সেটার জন্য গিয়েছিলাম। রোগী দেখতে যাওয়ার উদ্যোগ খারাপ কিনা পাল্টা প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এটাকে উল্টে ‘ব্যাড নিউজ’ করে দিলে আমি কী করব?
বিএনপি নেতা সরোয়ার জামাল বলেন, আমি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজেও দেখতে গিয়েছিলাম। হাসপাতাল থেকে কে চলে গেছে, কে ভর্তি হয়েছে, সেটা তো আমার জানার বিষয় নয়। আমিতো কাউকে নতুন করে ভর্তি হতে বলিনি। যারা ভর্তি ছিল তাদের চার–পাঁচ জনের তো হাত উল্টে গেছে। ডাক্তারকে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাদের কী করা যায়, এখানে রাখা হবে নাকি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হবে?
আমাদের









