ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র

| বৃহস্পতিবার , ১ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ

দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর ইরাকের শেষ ঘাঁটিগুলো থেকেও মার্কিন বাহিনীকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে পেন্টাগন। তবে সেনা প্রত্যাহার হলেও ২০০৩ সালের আক্রমণের পর থেকে ইরাকের তেল বিক্রির শত শত কোটি কোটি ডলারের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ওয়াশিংটন। সাড়ে চার হাজার মার্কিন সৈন্যের প্রাণহানির পর আমেরিকানদের এই প্রস্থানকে নিজেদের রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে উদযাপন করছে ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা। কিন্তু ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ নিয়ন্ত্রণের সুযোগে ওয়াশিংটন কেবল বাগদাদের রাজনীতি ও অর্থনীতিতেই প্রভাব খাটাচ্ছে না, পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখছে। খবর বিডিনিউজের।

ইরাকের তেল বিক্রির পুরো অর্থ জমা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে। ২০০৩ সালে ইরাক দখলের পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন প্রোভিশনাল অথরিটি (সিপিএ) দেশ পুনর্গঠনের জন্য ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর ইরাক (ডিএফআই) নামের একটি বিশেষ তহবিল গঠন করে। সাদ্দাম হোসেনের আমলের দেনা ও মামলা–মোকদ্দমা থেকে ইরাকের তেল আয়কে সুরক্ষা দিতে এর অ্যাকাউন্টটি নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে খোলা হয়।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা পরবর্তী সময়ে প্রতিটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নবায়ন করে আসছেন। পরবর্তী সময়ে এই ডিএফআই ফান্ডটি নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে পরিচালিত ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি মূল অ্যাকাউন্টে রূপান্তরিত হয়, যা আজও একই নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। ইরাকের জাতীয় বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশ আয় আসে তেল রপ্তানি থেকে। তেল রপ্তানির আয়ের পুরোটাই জমা হয় ফেডারেল ব্যাংকের ওই ইরাকি অ্যাকাউন্টে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিএসইতে লেনদেন ৪৬.৮৬ কোটি টাকা
পরবর্তী নিবন্ধমরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জাহারা আল মনসুরি