ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে অভিনন্দন

| মঙ্গলবার , ২১ জুলাই, ২০২৬ at ৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বব্যাপী আর্জেন্টিনার অগণিত দর্শককে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপ ছিনিয়ে নিলো স্পেন। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলেই স্পেন তুলে নেয় এই শ্বাসরুদ্ধকর জয়। এর মধ্য দিয়েই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল স্প্যানিশরা। বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের মাধ্যমেই স্পেন ইতিহাসের পাতায় লিখেছে নতুন অধ্যায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থেকে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে তারা। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল ইতালি। সেই সময়ে ইউরো ২০২০এর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপাও জিতেছিল আজ্জুরিরা। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিল স্পেন। আর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে এককভাবে রেকর্ডটির মালিক হয়ে গেছে তারা।

একদিকে স্পেনের বিজয়, অন্যদিকে লিওনেল মেসির বিদায়ী বিশ্বকাপ শেষ হলো হতাশা আর আক্ষেপ নিয়ে। ভাষ্যকারদের মতে, সবচেয়ে বিস্ময়কর পরিসংখ্যানটি ছিল আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের অসহায় চিত্র। পুরো ম্যাচে স্পেন যেখানে ২০টি শট নিয়েছে, সেখানে আর্জেন্টিনা নিতে পেরেছে মাত্র একটি শট। সেটিও লক্ষ্যে ছিল না। প্রথম ১১৭ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা কোনো শটই নিতে পারেনি। ম্যাচের শেষ দিকে হতাশা থেকে নেওয়া মেসির একটি প্রচেষ্টা স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে। সেটিই ছিল আর্জেন্টিনার একমাত্র শট। তাঁরা বলেন, ম্যাচের পুরো সময় বলের দখল, আক্রমণ তৈরি এবং সুযোগ সৃষ্টি সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল স্পেন। একের পর এক আক্রমণ ঠেকাতে ব্যস্ত ছিলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তিনি একাই ১১টি সেভ করে নতুন বিশ্বকাপ ফাইনালের রেকর্ড গড়েন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের জোরালো শটে তিনিও পরাস্ত হন। এই গোলটি আসার আগেই বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ দিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে অতিরিক্ত সময়ের পুরোটা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে।

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১০ সালের পর এবারও বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে স্পেন। এটি তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়।

নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল স্পেনের। একের পর এক আক্রমণ গড়েও দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পায়নি ইউরোপের চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা ছিল প্রায় নিষ্প্রভ।

বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলাটি সম্পর্কে এক ক্রীড়া ভাষ্যকার লিখেছেন, ‘ফুটবল তাহলে এভাবেও খেলা যায়! পাসের পর পাস আর প্রেসিংয়ের পর প্রেসিংয়ে প্রতিপক্ষের দম আটকে শেষ দিকে গোল করে ম্যাচটা নিজের নামে করে নেওয়া। ফাইনালসহ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেন ঠিক এই একই ছকে হারিয়েছে পরপর তিনটি প্রতিপক্ষকে। শুধু ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোরলাইন দেখলে বোঝা কঠিন, কতটা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে ফুটবলটা খেলেছে তারা। একটি পরিসংখ্যানই সেই আধিপত্য বোঝাতে যথেষ্ট। পুরো টুর্নামেন্টের আট ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে প্রতিপক্ষরা সব মিলিয়ে তৈরি করতে পেরেছে মাত্র ২.২ এক্সপেক্টেড গোল (ীএ)! সহজ কথায়, প্রতিপক্ষ দলগুলো কোনো বিপজ্জনক সুযোগই তৈরি করতে পারেনি। রক্ষণাত্মক কাঠামোয় এমন অভূতপূর্ব দাপট ফুটবলেই বিরল। ফাইনালেও চিত্রটা বদলায়নি একটুও। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি। সত্যি বলতে, স্পেন তাদের সেই জায়গাটুকু দেয়নি। মেসির সঙ্গে সতীর্থদের সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে, মাঝমাঠ ও রক্ষণে নিখুঁত প্রেসিংয়ের জাঁতাকলে পিষে আর্জেন্টিনাকে নিজেদের চেনা ফুটবলটা খেলতেই দেয়নি তারা। বলের দখল, আক্রমণ কিংবা গোলের সম্ভাবনাসবকিছুতেই স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্য। কেবল কাঙ্ক্ষিত গোলটাই আসছিল না।’

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোল করা ফেরান তোরেস বিশ্বাসই করতে পারছেন না, তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ম্যাচ শেষ তিনি সাংবাদিকদের জানান, অনুভূতিটা তিনি এখনও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছেন না। তোরেস বলেন, সত্যি বলতে, আমি অত কিছু ভাবিনি। আমি শুধু দেখলাম বল আমার দিকে আসছে, আর আমি স্পেনের সমস্ত মানুষের শক্তি বুকে নিয়ে এক জোর শট মারলাম।

আমরা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে জানাই অভিনন্দন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে