আশার আলো দেখছেন ব্যাটিং কোচ আশরাফুল

স্পোর্টস ডেস্ক | মঙ্গলবার , ১২ মে, ২০২৬ at ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশপাকিস্তান প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনে খেলা হয়েছে মোটে ৪৮.৪ ওভারে। যে ওভারগুলো ভেসে গেল বৃষ্টিতে, সেখানে আসলে মুছে গেল বাংলাদেশের অনেক আশা ও সম্ভাবনার ছবিও। তারপরও অবশ্য জয়ের ছবি আঁকছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। শেষ দিনে কীভাবে জিততে পারে দল, সেটির সম্ভাব্য একটি ছবি গতকাল মেলে ধরলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনে বিনা উইকেটে ৭ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার দিন শেষে বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ১৫২। দুই ইনিংস মিলিয়ে এগিয়ে তারা ১৭৯ রানে। এখনও পর্যন্ত যা চিত্র, তাতে তিনটি ফলাফল সম্ভব এখনও। তবে বাস্তব সম্ভাবনা বেশি ড্রয়ের। বাংলাদেশ যদি পরাজয়কে সমীকরণের বাইরে ঠেলে দিতে নিরাপদ অবস্থানে যেতে চায়, তাহলে হয়তো গোটা প্রায় প্রথম সেশনই ব্যাট করতে হবে তাদেরকে। সেক্ষেত্রে জয়ের সম্ভাবনাও মিইয়ে আসবে অনেকটা। গতকাল দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠে বাংলাদেশ আরও দ্রুতগতিতে রান তুলতে পারত কি না। ওভারপ্রতি রান তুলেছে তারা তিন করে। তবে আশরাফুল একমত হলেন না এই ভাবনার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা ধীরগতিতে তো খেলিনি। টেস্ট ক্রিকেট যেভাবে আসলে খেলতে হয়, আমি মনে করি যে আমরা ওভাবেই খেলছি। বৃষ্টিটা তো আমাদের কন্ট্রোলের মধ্যে নাই। নিয়ন্ত্রণের বাইরের ব্যাপার। আমি বলব, এখনও উইকেটে যে সহায়তা আছে, আমরা যদি আরেকটু কালকে সকালে একটু ভালো ব্যাটিং করি তবে এই ম্যাচ জেতা সম্ভব।’ শেষ দিনে খেলা শুরু হবে আগে। পুরো দিন খেলা ৯৮ ওভার পাওয়া যাবে। এখানেই আশার আলো দেখছেন আশরাফুল। ‘অবশ্যই আমরা জেতার জন্য খেলছি এবং আমাদের যে বোলিং আক্রমণ, বিশেষ করে আমাদের স্পিন আক্রমণ এবং ফাস্ট বোলিং আক্রমণ, আমরা যদি ৭০৭৫ ওভার বল করতে পারি, কালকে যদি বৃষ্টি না হয়, ৯৮ ওভার খেলার সুযোগ থাকবে। ৭৫ ওভার বোলিং করতে পারলে আমি মনে করি যে আমরা জেতার সম্ভাবনা থাকবে।’ ‘আমার মনে হয় যে ৭৫ ওভার যদি আমরা বল করতে পারি এবং ২৬০ বা এই ধরনের একটা রান যদি আমরা করতে পারি, আমার মনে হয় ওই রানে জেতা সম্ভব হবে।’ আশরাফুলের কথা তাত্ত্বিকভাবে ঠিক আছে বটে। তবে বাস্তবতা হলো, টেস্টের প্রথম চার দিনের কোনো দিনই পুরো ৯০ ওভারও খেলা হতে পারেনি আলোকস্বল্পতার কারণে। শেষ দিনে ৯৮ ওভার পুরো হওয়ার সম্ভাবনাও তাই ক্ষীণ। ম্যাচ জিততে হলে প্রথম সেশনে দারুণ ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি পরে অসাধারণ বোলিংও করতে হবে বাংলাদেশকে। আপাতত একটি আশার খবর, শেষ দিনে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির শঙ্কা তেমন একটা নেই।

এদিকে মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসে ব্যাট হাতে ব্যর্থ বাংলাদেশের দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলামের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন আশরাফুল। তিনি বলেন, ‘শেষ টেস্ট সিরিজে আমাদের তিনটা ইনিংসে ওপেনিংয়ে পার্টনারশিপ অসাধারণ ছিল। ১০০ রানের পার্টনারশিপও ছিল। জয় তিন ইনিংসে প্রায় ২৬৫ রান বা ২৩৫ রানের মত করেছিল। সাদমান তিন ইনিংসে প্রায় ১৯০এর বেশি রান করেছিল, দুইটা ৮০ রানের ইনিংস ছিল। জয়ের ক্যারিয়ার সেরা ১৭১ রানের একটা ইনিংস ছিল। এখানে দুইটা ইনিংসে রান হয়নি কারণ আমরা জানি যে আমরা টস হেরে ব্যাটিং করেছি, অতটা সহজ ছিল না নতুন বলে খেলা। দুই ইনিংসেই আমরা যেভাবে আশা করেছি সেভাবে হয়নি। আশা করি পরের ম্যাচেই আমাদের দুই ওপেনার আবার তাদের ফর্মে ফিরে আসবে।’

বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মোমিনুল। আবার টানা পাঁচ ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি তুলে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিয়্যেছেন তিনি। দিন শেষে মোমিনুলের প্রশংসা করেছেন আশরাফুল। তিনি বলেন, ‘শেষ পাঁচ ইনিংসে দুইটা ৮০, একটা ৯০, একটা ৬০, আজকে ৫৬। আলহামদুলিল্লাহ সব ইনিংসেই দলের জন্য অবদান রাখছে সে। মুশফিকের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ১শ টেস্ট খেলার খুব কাছে মোমিনুলই আছেন। যদিও এখনও ২৪টা ম্যাচ বাকি আছে। অবশ্যই আমি মনে করি বাংলাদেশের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ১শ টেস্ট খেলবে সে। আবার এটাও আশা করি যেভাবে সে অবদান রাখছে এটা ধারাবাহিক থাকবে। ৫০ রানের ইনিংস বড় হয়ে ১শ করতে পারবে।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধ১৬ বছর পর তামিমের পাশে মোমিনুল
পরবর্তী নিবন্ধনাট্যজন আতাউর রহমান লাইফ সাপোর্টে