আমার দেখা সুবর্ণভূমি

তরুণ কান্তি বড়ুয়া | শুক্রবার , ৮ মে, ২০২৬ at ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ

অনেক পূর্ব থেকে বর্তমান থাইল্যান্ড, প্রাচীন সিয়াম দেশ বা সুবর্ণভূমির নানান বর্ণনা শুনে এসেছি। বৌদ্ধ প্রতিরূপ দেশ হিসেবে দেশটি ঘুরে দেখার আগ্রহ ছিল দীর্ঘ দিনের। ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে একটি বিদেশি সংস্থার আমন্ত্রণে ফ্রি এয়ার টিকেট পেয়ে ব্যাংকক হয়ে চিয়াংমাই যাওয়া আসার সুযোগ পেয়েও ঢাকাস্থ থাই এম্বেসি সময়মতো ভিসা না দেওয়াতে সুবর্ণভূমি ভ্রমণের সুবর্ণ সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে যায়। ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিক বেসক ডে উদযাপন অনুষ্ঠান ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়। সেবারও আমন্ত্রিত হয়ে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভিসা সংগ্রহ না করায় সুবর্ণভূমি ভ্রমণে যাওয়া হয়ে উঠে নি।

থাইল্যান্ড ভ্রমণের সফরসূচি নিয়ে জিয়ার সাথে আলাপ করতেই সে বললো তরুণ, তোমাকে কাওয়াই নদীর ব্রীজ দেখাতে নিয়ে যাবো। জিয়ার প্রস্তাবটি শুনে আমি আনন্দে উদ্বেলিত হই কারণ ৮০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ডেবিড লীন পরিচালিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ছবি “The Bridge on the River Kwai” দেখেছিলাম। উল্লেখিত ছবির ব্রীজটা পশ্চিম থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুড়ি প্রদেশের অর্ন্তগত বার্মা সীমান্তে কাওয়াই নদীর ওপর নির্মিত হয়েছিল। এটি বার্মাসিয়াম রেলওেয়ের ১৭৭ নম্বর সেতু। ব্যাংকক শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১২৯ কিলোমিটার। কাওয়াই ব্রিজ এবং তৎসংলগ্ন এলাকাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়ে আছে। অস্কার বিজয়ী ছবি দ্যা ব্রীজ অন দ্যা রিভার কাওয়াইর স্মৃতি বিজড়িত কাওয়াই ব্রীজ দর্শন প্রথম দিনের থাইল্যান্ড সফরে আমার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। ব্রীজটা দর্শনে আসার পথেই কাঞ্চনাবুড়ি ওয়ার সিমেট্রিতে প্রবেশ করে ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পরিদর্শন করি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মাহুতি দেওয়া মিত্রবাহিনীর সৈন্যদের সমাধিস্থল। দ্যা ব্রীজ অন দ্যা রিভার কাওয়াই দর্শনর পর কাওয়াই নদীর পার্শ্ববর্তী একটা রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে ফেরার পথে আমরা এরাওয়ান জলপ্রপাত দর্শনে যাই। এরাওয়ান জলপ্রপাতটি থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুড়ি প্রদেশের এরাওয়ান জাতীয় উদ্যানে অবস্থিত। এটি কাঞ্চনাবুড়ি শহর থেকে ৬৫ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত বৃহত্তম মনোমুগ্ধকর জলপ্রপাত। ব্যাংকক শহর থেকে এখানে পৌঁছাতে দুই ঘন্টার ওপর সময় লেগে যায়। সকাল ৯ টায় যাত্রা করে ব্যাংককস্থ গ্র্যান্ড বিজনেস ইনএ ফিরতে সন্ধ্যা অতিক্রান্ত হয়ে যায়। একটু বিশ্রাম ও ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি কারণ পরদিন সকালে নতুন গন্তব্যের পথে ছুটতে হবে।

৬ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ থাইল্যান্ড সফরের দ্বিতীয় দিবসটি কাটে পাতায়ার পথে নমগ্রুস বোটানিক্যাল গার্ডেন পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে। সফর কালীন সময়ে আমার থাকার জায়গা গ্র্যান্ড বিজনেস ইনথেকে টেক্সীযোগে প্রথমেই নমগ্রুস বোটানিক্যাল গার্ডেনএ পৌঁছি। এখানে প্রতিজনের প্রবেশ ফি ১৫০০ বাথ দিয়ে দুটি টিকেট সংগ্রহ করতে হয়। এ গার্ডেনটি বিশ্বের ৪ টি সুন্দরতম বোটানিক্যাল গার্ডেন র মধ্যে অন্যতম। গার্ডেন টির মধ্যস্থিত একটি রেঁস্তোরায় ইন্ডিয়ান ফুড খেয়ে ১.৩০ মিনিটে প্রায় ১ ঘন্টাব্যাপী এলিফ্যান্ট শো এবং কালচারাল শো উপভোগ করি। পরবর্তীতে ৩০ মিনিট অভ্যন্তরীণ বাসে আমাদেরকে দৃষ্টিনন্দন বোটানিক্যাল গার্ডেন ঘুরিয়ে দেখানো হয়। সেদিন পরবর্তী দর্শনীয় স্থান ছিল সেংচুয়ারি অফ ট্রুথ নামক সাগর পাড়ের প্রাচীন মন্দির দর্শন। সবশেষে সেদিনের দর্শনীয় স্থান হচ্ছে থাইল্যান্ডের প্রসিদ্ধ পাতায়া বীচ। পাতায়া বীচে সন্ধ্যার পূর্বে কিছুক্ষণ অবস্থান করে বুঝতে পারলাম বীচ টি কক্সবাজারের তুলনায় অনেক ছোট তবে বীচ টির বিশ্বব্যাপী খ্যাতির পেছনের কারণ হলো পৃথিবীর নানান দেশের পর্যটকদের অবাধ ভীড়ের স্রোত। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকদের চাপে এখানকার হোটেল গুলো স্থান সংকুলানে হিমশিম খায়। থাইল্যান্ডের প্রতিটি স্থান পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিভিন্ন কারণে। প্রথম কারণ টি হলো পর্যটন সুবিধা এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সরকারি বেসরকারি খাতে দৃশ্যনীয় অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতা। এখানকার হোটেল ফুটপাত থেকে শুরু করে পর্যটনের স্থান গুলোতে ভিনদেশী লোকদের বিচিত্র ধরনের পোশাক পড়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরার বিষয়টি কারো নজর কাড়ে আবার কারোর কাছে বিরক্তির কারণ। বিশেষ করে আমাদের দেশের মতো রক্ষণশীল পরিবারগুলো সন্তান সন্ততি নিয়ে এসব দেশে সফরে গেলে তাঁদের সন্তান সন্ততিদের মাঝে মুক্ত অবাধ সংস্কৃতির নেতিবাচক ছোঁয়া লাগতে পারে বলে সন্দেহ থেকে যায়।

থাইল্যান্ড সফরের ৩য় দিনে দর্শনীয় স্থান দেখার প্রথমে ছিল প্রসিদ্ধ গ্র্যান্ড প্যালেস দেখা। গ্র্যান্ড প্যালেস হচ্ছে থাইল্যান্ডের কেন্দ্রে অবস্থিত ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত অপূর্ব এক শিল্পকর্ম। শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এটি রাজকীয় বাসস্থান বা জাতির আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচিত। সকাল ৯.৩০ মিনিটে দুই বন্ধু মিলে টেক্সীক্যাব যোগে গ্র্যান্ড প্যালেসের উদ্দেশ্যে রওনা হই। ৩০ মিনিটের মধ্যে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাই। গ্র্যান্ড প্যালেসের স্থাপনা গুলো রাজা, রাজ রাজত্বের দিশারি ও থাই জনগণের কাহিনি বহন করে আসছে। প্রথমেই ইমারেল্ড বুদ্ধমূর্তি ও টেম্পল দর্শন করি। টেম্পল ও বুদ্ধমূর্তি সত্যিই অপরূপ দর্শনীয়। পাশ্ববর্তী প্রাসাদ সংলগ্ন একটি কক্ষে সাংস্কৃতিক আকর্ষণীয় স্থাপনা রাণী সিরিকেট যাদুঘর, বস্ত্র ও শিল্পকলা সমৃদ্ধ রাজকীয় প্রদর্শনী ছিল অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। বহিরাঙ্গনে ছবি তোলার সুযোগ থাকলেও মন্দিরের ভেতরে ইমারেল্ড বুদ্ধমূর্তির ছবি তোলা নিষিদ্ধ। প্রচন্ড গরমের মধ্যে গ্র্যান্ড প্যালেসের চৌহদ্দি ঘুরে পেছনের সড়ক ধরে চাওফ্রা নদীর অপর পাড়ে ওয়াট অরুণাটেম্পলটি দেখতে গেলাম। টেম্পলটির অবস্থান হলো ব্যাংকক জেলার চাওফ্রা নদীর পশ্চিম তীরে মানকুড়ি এলাকায়। মন্দির প্রাঙ্গনে প্রবেশ ফি ২০০ বাথ। পার্শ্ববর্তী বুদ্ধ মন্দির ও স্থাপনা দেখা শেষে এবার আমাদের যাত্রার লক্ষ্যস্থল ছিল বর্তমানে থাইল্যান্ডে আধুনিক শপিং মল আইকন সিয়ামঘুরে দেখা। পৃথিবীর নানান দেশের পর্যটকদের ভীড়ে মলটিতে জনারণ্যের দৃশ্য পরিলক্ষিত হচ্ছিল। পৌঁছে ই প্রথমে একটি থাই রেস্টুরেন্টে আমাদের মধ্যাহ্ন ভোজ সেরে নিয়েছিলাম। গরমে অত্যধিক ক্লান্তিবোধ করায় স্থানীয় সময় দুপুর ২ টায় আমার আবাসিক হোটেল গ্র্যান্ড বিজনেস ইনএ ফিরে আসি।

থাইল্যান্ড সফরের ৪র্থ দিন ৮//২০২৬ খ্রিস্টাব্দে আমাদের ভ্রমণের লক্ষ্যস্থল ছিল প্রাচীন সিয়াম দেশের দ্যা এনসিয়েন্ট সিটি অফ ব্যাংককদর্শন। এটি মূলত যাদুঘর সদৃশ স্থাপনা বিশিষ্ট পার্ক যেখানে বিখ্যাত সিয়ামিস অবস্থান রেপলিকার অস্তিত্বের মাঝে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। থাই মানচিত্রের অবয়বে স্থাপিত প্রায় ২০০ একর জমির

ওপর প্রতিষ্ঠিত শিল্পকলার প্রতিষ্ঠাতা হলেন লেক ভিরিয়াপান। এখানকার জাদুঘর সদৃশ স্থাপনাগুলো থাই স্থাপত্য ও পুরাকৃর্তির নিদর্শন সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় উন্মুক্ত আকাশতলে অবস্থিত। স্যামুয়েল প্রাখান প্রদেশের কুমির খামারের নিকটে এর অবস্থান। এখানে প্রাচীন সিয়ামরাষ্ট্রের প্রকৃত বিন্যাস বিভিন্ন স্মৃতি স্তম্ভের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। অনেক প্রতিরূপ স্থাপনা বাস্তব অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হলেও কিছু স্থাপনার নকশা সৃষ্ট যা নির্দিষ্ট কোনো ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে নয়। গ্র্যান্ড প্যালেস অব আয়ুথায়ার প্রসিদ্ধ নির্মাণ কাজ এতে সন্নিবেশিত ছিল। লেক ভিরিয়ানর ব্যক্তিগত উদ্যোগে থাই মানচিত্রের আদলে এই এনসিয়েন্ট সিটির স্থাপনাগুলো প্রতিষ্ঠিত। ৪০০ বছর পূর্বের পুরাতন স্থাপনাগুলো এখন বিশ্বের সকল দেশের পর্যটকদের নজরকাড়া পর্যটন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার দেশিবিদেশি পর্যটক দ্যা এনসিয়েন্ট সিটি পরিদর্শনে আসেন।

থাইল্যান্ড সফরের ৫ম দিন আমাদের সফরের লক্ষ্যস্থল ছিল বিশ্বখ্যাত ধর্মীয় ও মানবতাবাদী সংস্থা ধম্মকায়া ফাউন্ডেশন পরিদর্শন (ধম্মকায়া চেটিয়া)। ওয়াট ধম্মকায়া এবং ধম্মকায়া ফাউন্ডেশনর বিশ্বব্যাপী ৩৪ টি দেশে ১০২টি সমন্বয় কেন্দ্র রয়েছে। ধম্মকায়া ফাউন্ডেশন বিগত অর্ধশতাব্দী ধরে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তার ধর্মীয় কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। এটির লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বব্যাপী বুদ্ধের শিক্ষা ও ধ্যানমগ্নতা বিষয়ে ব্যাপ্তি ও প্রসার ঘটানো। বুদ্ধের ধ্যান পদ্ধতির প্রসার বলতে সমাধির শান্ত ও প্রত্যক্ষ অন্তর্দৃষ্টির প্রকাশ ও প্রসার যার মূখ্য লক্ষ্য হচ্ছে সাধনার মাধ্যমে মনের অন্তস্থিত শান্তি আনয়নের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা। ওয়াট ফ্রা ধম্মকায়া বা ধম্মকায়া ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংককের উত্তরে ফাতুম থানি প্রদেশের খলং লয়ং জেলায় অবস্থিত। এটি ১৯৭০ সালে মাস্টার নান চন্দা খন্নকিয়ং এবং লুয়াং ফো ধম্মজায়ো কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি বৃহৎ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ধম্মকায়া একটি বর্ধিষ্ণু সুপরিচিত মন্দির প্রকল্প এবং অন্যতম ভাবনা কেন্দ্র যা থেরবাদ বৌদ্ধ ধর্মের অংশ হয়ে বিরাজিত।

থাইল্যান্ড দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সৈকত, ঐশ্বর্য্যপূর্ণ রাজপ্রাসাদ, প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ এবং অলংকৃত মন্দির শোভায় সমৃদ্ধ। এর আয়তন ৫,১৩.১২০ বর্গ কিলোমিটার যা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। জনসংখ্যা ৭ কোটি ১৪ লক্ষ ৫৯ হাজার। থাইল্যান্ডে যৌন জীবন সন্দেহাতীতভাবে বিশ্বের একটি জটিল সমস্যা। ঐতিহ্যগত রক্ষণশীলতার মাঝে আধুনিক জীবন যাত্রা, বিশেষকরে পর্যটন শিল্পের বর্ধিষ্ণু বিকাশের কারণে বানিজ্যিক যৌনতা প্রকটভাবে বেড়েই চলেছে। এদেশের বৈচিত্র্যময় কৃষিখাত অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং রপ্তানিমুখী যা দেশটির জিডিপির ৯%-১০.% অবদান রাখে। ধান প্রধান অর্থকরী ফসল হলেও অন্যান্য উৎপাদিত সম্পদের মধ্যে রাবার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদনের সিংহভাগই থাইল্যান্ডে হয়। তাদের ৪০% শ্রমশক্তি এই খাতে নিয়োজিত।

থাইল্যান্ডে পর্যটকদের জন্য সাশ্রয়ী থেকে বিলাসবহুল সবধরনের হোটেল রয়েছে। পর্যটকদের ভীর অধ্যুষিত হোটেল গুলোতে তুলনামূলকভাবে ভাড়া বেশি হয়ে থাকে। সন্ধ্যায় থাই রেস্টুরেন্ট বিশেষকরে রাস্তার পাশের রেঁস্তোরাগুলো জমকালো চিত্র এবং ব্যাংককস্থ শহর নগরে ভিনদেশী যুবক যুবতী, থেকে শুরু করে মাঝ বয়সী ও প্রৌঢ় লোকজনের বিনোদন ও আড্ডার কেন্দ্র হয়ে উঠে। পাতায়াতে দিনের বেলা ঘোরাফেরা নিরাপদ কিন্তু রাতের পাতায়ার চিত্র নাকি ভিন্নতর। পাতায়া, ফুকেট এবং ব্যাংককের মতো স্থানগুলো নাইটলাইফ এবং সেক্সটুরিজম অঞ্চল হিসেবে উল্লেখযোগ্য। যৌনাচার অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও এটি প্রায় যায়গায় ব্যাপকভাবে প্রচলিত বিশেষকরে পর্যটকদের জন্য যা খুবই সহজলভ্য।

থাইল্যান্ডের সাধারণ জনগণকে অত্যন্ত ধর্মভীরু মনে হয়েছে। হোটেল রেস্টুরেন্টে কর্মরত নারী বিশেষকরে যুবতী থাই মেয়েদের পর্যটনে আসা বিদেশি মেয়েদের তুলনায় পোশাকে আশাকে অনেক মার্জিত, ভদ্র, নমনীয় ও অতিথিবৎসল মনে হয়েছে। হোটেল রেঁস্তোরা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটে থাই নারী পুরুষ বিদেশিদের দুহাত জোর করে বুক স্পর্শ করে মাথা নুইয়ে সম্মান জানাতে দেখা যায়। রেস্টুরেন্ট শপিং মল এবং বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত মুসলিম নারীদের হিজাব পড়া অবস্থায় অত্যন্ত মার্জিত স্বভাবের মনে হয়েছে।

ব্যক্তিগত সফরে প্রায় সপ্তাহ কাল সুবর্ণভূমি ঘুরে ১০ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে সরাসরি চট্টগ্রামে ফিরে আসি। ব্যাংককে অবস্থানকালীন সময়ে বন্ধু জিয়ার সান্নিধ্য, সহযোগিতা সত্যিই খুব প্রশংসনীয়। আমাকে যে সহযোগিতা দিয়েছে সে অন্য কাউকে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কাউকে দিবে বলে মনে হয়না। এককথায় বন্ধুটির সহযোগিতা, সাহচর্য অকৃত্রিম, অতুলনীয়। সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করা, বিভিন্ন স্থানে সফরসঙ্গী হওয়া এবং আসার সময় এয়ারপোর্টে সর্বশেষ বিদায় জানানো এ অভাবনীয় অনুভূতি স্মৃতি বিভ্রাট না ঘটলে আমৃত্যু আমার মনে থাকবে।

লেখক: শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, প্রাক্তন অধ্যক্ষ রাংগুনিয়া সরকারি কলেজ ও বর্তমানে রেক্ট্রর বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ, ঢাকা১২১৬।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমাকামে ইব্রাহিম ও হাজরে আসওয়াদ এক ঐতিহাসিক ও বরকতময় নিদর্শন
পরবর্তী নিবন্ধকাটিরহাট বাজারে জলাবদ্ধতা নিরসনে অভিযান, অর্থদন্ড